সিদ্দিকী নাজমুল আলমের ব্যাংক হিসাব আবারও তলব
নিজস্ব প্রতিনিধি
নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের ব্যাংক হিসাবের তথ্য আবারও তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
সম্প্রতি (২০ এপ্রিল) সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতার ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সিদ্দিকী নাজমুল আলমের নামে কোনো ব্যাংকে হিসাব থাকলে বা কোনো লেনদেন সংগঠিত হলে বা এছাড়া কোনো তথ্য থাকলে তা বিএফআইইউকে পাঠাতে হবে।
জানা গেছে সাবেক এই ছাত্রনেতা বর্তমানে দেশে নেই।তার ভেরিফায়েড ফেইসবুকের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন।
এর আগেও একাধিকবার সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতার ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখে বিএফআইইউ।
বারবার একই ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব তলবের কারণে ব্যাংকগুলোর মধ্যেও সিদ্দিকী নাজমুল আলমকে নিয়ে কৌতুহল দেখা দিয়েছে।
এক ব্যাংক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলে বাংলানিউজকে বলেন, বারবার তথ্য তলব করে কি কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যাবে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছূক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের বাইরে বসেও লেনদেন করার সুযোগ রয়েছে। সে ধরনের কোনো কিছু ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে আবার চিঠি দেওয়া হতে পারে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সিদ্দিকী নাজমুল আলমের ফেইসবুকের সাম্প্রতিক কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই রাজনৈতিক পোস্ট। সম্প্রতি তিনি ৫ আগস্টে গণভবনে ঢুকে পড়ার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মূর্তি ভাঙ্গার সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তির ছবি পোস্ট করেছেন। এছাড়া আরও অনেক ধরনের পোস্ট দিচ্ছেন নিয়মিত। নিজের দলের লোকদের নাম উল্লেখ না করে সমালোচনা করেন।
এসব পোস্টের কমেন্টে কেউ কেউ সিদ্দিকী নাজমুল আলমের এক সময়ের ব্যাংকের মালিকানায় থাকা এবং বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানের সমালোচনা করেও মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, সিদ্দিকী নাজমুল আলমের নামে সাবেক ফারমার্স ব্যাংকের শেয়ার কিনেছিলেন ব্যাংকটির এক পরিচালক। এসব নিয়ে ২০১৯ সালের অক্টোবরে বিএফআইইউ থেকে একবার তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করা হয়েছিল। তখন অর্থ পাচার, অবৈধ আয়সহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখতে তার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক এই দলটির ছাত্র-সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একই সঙ্গে এই ছাত্রসংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ৫ আগস্টের পর সংগঠনটির অনেক সাবেক ও বর্তমান নেতাকেই আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

