জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন বিষয়ে শিক্ষক, যুব ও শিক্ষার্থীদের দুই ব্যাচের আবাসিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (GEF)-এর অর্থায়ন এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় পরিবেশ অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন "Integrating Climate Change Adaptation into Sustainable Development Pathways of Bangladesh" প্রকল্পের উদ্যোগে চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলার শিক্ষক, যুব প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন বিষয়ে দুই ব্যাচের আবাসিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২৭ থেকে ২৮ জুলাই এবং ২৯ থেকে ৩০ জুলাই সীতাকুণ্ডের YPSA-HRDC ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে দুই ব্যাচে মোট ৮০ জন শিক্ষক, যুব প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজনের মৌলিক ধারণা, স্থানীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (LAPA), ক্লাইমেট-স্মার্ট কৃষি, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (Nature-based Solutions), অন্তর্ভুক্তিমূলক জলবায়ু কার্যক্রম, যুব নেতৃত্ব ও অ্যাডভোকেসি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন বিষয়ে অংশগ্রহণমূলক ও ব্যবহারিক সেশন পরিচালিত হয়।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. লুৎফর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জামির উদ্দিন এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও SD Pathways Project-এর প্রকল্প পরিচালক মো. খালেদ হাসান।
প্রশিক্ষণে প্রকল্প ব্যবস্থাপক পঙ্কজ পাল, অ্যাডমিন অ্যান্ড ফাইন্যান্স অ্যাসোসিয়েট রাবেয়া আক্তার এবং প্রশিক্ষণ পরামর্শক আমির হামজা ও জুবাইর ইসলাম বিভিন্ন কারিগরি সেশন পরিচালনা করেন। কর্মসূচির সার্বিক সমন্বয়, আয়োজন ও যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করেন প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী মো. ওয়াহিদ হোসেন।
প্রধান অতিথি ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, "আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে তাদের সচেতন ও দক্ষ করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জামির উদ্দিন বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সচেতন ও দক্ষ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশ সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।"
ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, "জলবায়ু অভিযোজনে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা প্রশাসন দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও তরুণরা নিজ নিজ এলাকায় পরিবেশ সচেতনতার দূত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
সভাপতির বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক মো. খালেদ হাসান বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষক, যুব ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ ধরনের প্রশিক্ষণ স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

