ডার্ক মোড
Monday, 27 July 2026
ePaper   
Logo
ছাত্র-জনতা হত্যা,  একাধিক নারী কেলেঙ্কারির আসামি অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুল:   একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, সবশেষ ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছাত্র-জনতা হত্যা, একাধিক নারী কেলেঙ্কারির আসামি অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুল: একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, সবশেষ ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বিশেষ প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে পদোন্নতি পাওয়া এবং প্রশাসনিক সুরক্ষায় বহাল তবিয়তে থাকার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও মাগুরার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

শুধু পেশাগত অপরাধ বা রাজনৈতিক বিতর্কই নয়, ব্যক্তিজীবনে ক্ষমতা ও পদের অপব্যবহার করে চরম অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা ঝুলছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সবশেষ বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকার ভাটারা থানাধীন কুড়িল এলাকায় গুলি ও পিটুনিতে নিহত হন পাবনা সদর উপজেলার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং- ৫) দায়ের করেন। এজাহারে উল্লিখিত ফ্যাসিবাদের সহযোগী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলায় সম্পৃক্তদের মধ্যে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলার আসামী হওয়ার পরও তৎকালীন বড় কর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি কেবল গ্রেফতার এড়াননি, বরং উচ্চপদে পদোন্নতিও লাভ করেছেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুলিশের সদরদপ্তরে অন্তত ৯ জন নারী সদস্য ও ভুক্তভোগী পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন। মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার থাকাকালে জহিরুল ইসলাম তার অধীনস্থ এক পরিদর্শকের (ওসি) স্ত্রী সোনিয়া ইভানাকে ভাগিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই বিয়ের আগে জহিরুলের অবৈধ মেলামেশার চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়। মাগুরার শ্রীপুরের এক সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) স্ত্রীর প্রতি কুদৃষ্টি দেওয়ার পর, ওই এসআই রাজি না হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করেন জহিরুল।

পরবর্তীতে বরখাস্ত আদেশের আবেদনের বিনিময়ে অনৈতিক প্রস্তাব দিলে ওই গৃহবধূ তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং অডিও রেকর্ড প্রকাশ করে দেন।
তার প্রথম স্ত্রী ফাহিমা আক্তার জানান, ১৯৯৯ সালে ছাত্রাবস্থায় বিয়ের পর তিনি নিজে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি করে জহিরুলের পড়াশোনা ও বিসিএস পরীক্ষার খরচ চালান। বিসিএস (২৪তম) ক্যাডার হয়ে মাগুরার এসপি হওয়ার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকে। তালাকের পরও তাকে একাধিক মিথ্যা মামলা ও জিডি করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে ফাহিমা আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এমনকি সন্তানের জন্য দেওয়া খরচের প্রতিশ্রুতিও তিনি ভঙ্গ করেছেন।

অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আইনি ধাক্কাটি এসেছে সম্প্রতি। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, মাগুরার এসপি থাকাকালে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ভুক্তভোগী এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয় জহিরুলের। সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে সম্পর্কের সূচনা করেন। মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিসের রেস্টরুম ও ঢাকার বাসায় একাধিকবার নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। এমনকি হাসপাতালে রোগী পরিচয়ে জহিরুল নিজেকে ওই নারীর স্বামী হিসেবে দাবি করেছিলেন।

পরবর্তীতে জহিরুল পুলিশ সদরদপ্তরে বদলি হয়ে আসার পর বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং উল্টো আইনি পদক্ষেপ নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভুক্তভোগী ২০২৫ সালে জিডি ও আইজিপির কাছে অভিযোগ জানানোর পর চলতি বছরের মে মাসে ঢাকার নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা (নং ২৩/২৬) দায়ের করেন।
ট্রাইব্যুনালের আদেশে পরিচালিত বিচার বিভাগীয় তদন্তে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সোমবার ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু দমন আইন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুনতাসির আহমেদ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

পরনারী ভোগের ভিডিও ফাঁস, আপত্তিকর কনটেন্ট মানুষের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়া এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের পরও পুলিশ বিভাগ জহিরুলকে শুধু ময়মনসিংহ থেকে বদলি করে ঢাকার পুলিশ সদর দপ্তরে রিজার্ভ (ওএসডি) হিসেবে রেখে বেতন-ভাতা প্রদান করছে। পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা এবং ক্লিন ইমেজ ফিরিয়ে আনতে হত্যা, ধর্ষণ ও চরম দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এই বিতর্কিত অতিরিক্ত ডিআইজিকে অবিলম্বে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পরোয়ানা অনুযায়ী দ্রুত গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি উঠেছে।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়া হলেও তিনি কোন জবাব দেননি।

ছাত্র-জনতা হত্যা,  একাধিক নারী কেলেঙ্কারির আসামি অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুল:   একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, সবশেষ ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন