গুলিস্তানে বাস কাউন্টার বন্ধে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
স্টাফ রিপোর্টার
গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে আন্তঃজেলা দূরপাল্লার প্রাইভেট বাস কাউন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পর চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা।
গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ টার্মিনালগুলো নিজ নিজ স্থানে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখলেও, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার যাত্রীরা হঠাৎ দিশেহারা ও চরম বিপাকে পড়েছেন।
রাজধানীর যানজট নিরসনে কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তের আলোকে গুলিস্তান থেকে পরিচালিত বেসরকারি বাস কোম্পানিগুলোকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে কার্যক্রম স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে বাস মালিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সময় বা উপযুক্ত কোনো বিকল্প জায়গা না দিয়েই হঠাৎ করে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
যাত্রীরা জানান, দুটি মেট্রোরেল স্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাস টার্মিনালটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে ছিল। কোনো পূর্বঘোষণা বা উত্তরণকালীন ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ কাউন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় দূরদূরান্তের বাস ধরার জন্য যাত্রীদের গুলিস্তান থেকে পায়ে হেঁটে বা রিকশায় গিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে মারাত্মক ভোগান্তিতে ফেলেছে।
হঠাৎ করে এই স্থানান্তরের ফলে যাতায়াতের সময় এবং শারীরিক ক্লান্তি উভয়ই বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বাস মালিকরা জানান, যানজট কমানোর সরকারি উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানান, তবে তা হওয়া উচিত ছিল সুষম ও সর্বজনীন। শহরের ভেতরে অবস্থিত গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ টার্মিনালগুলো যখন স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তখন কেবল গুলিস্তানকে কেন বেছে নিয়ে বাস কাউন্টার বন্ধ করা হলো—সে প্রশ্নও তোলেন তাঁরা।
এই সিদ্ধান্ত পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের ওপরও এক বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে। অনেক কাউন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবহন শ্রমিক ও চালকরা কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন এবং পরিবার নিয়ে মানবিক জীবনযাপন করছেন। এ ছাড়া বাস মালিকেরা জানান, বাসের ট্রিপের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় যানবাহন অলস বসে আছে। ফলে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তারা বড় ধরনের খেলাপির ঝুঁকিতে পড়েছেন। একই সাথে এই খাতের অচলাবস্থার কারণে সরকারও বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে বলে তারা সতর্ক করেন।
পরিবহন শিল্পকে রক্ষা করা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিক ও ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। তাঁরা বিকল্প সুবিধার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত একটি পর্যায়ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ অথবা গুলিস্তান থেকে সাময়িকভাবে আগের মতো বাস কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

