চট্টগ্রাম আউটার অ্যাঙ্করেজে জাহাজে ডাকাতির খবর 'ভিত্তিহীন' দাবি করে কোস্ট গার্ডের প্রত্যাখ্যান
স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রাম বন্দরের আউটার অ্যাঙ্করেজে (বহির্নোঙর) বাণিজ্যিক জাহাজে ডাকাতির সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। নির্দিষ্ট জাহাজগুলোতে ডাকাতির দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বাহিনীর পক্ষ থেকে দেশের সামুদ্রিক কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষায় পরিচালিত বিভিন্ন অপরাধবিরোধী অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ প্রদান করেন।
"চট্টগ্রাম আউটার অ্যাঙ্করেজে ৩ জাহাজে ডাকাতি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ" শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে কোস্ট গার্ড ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ উপস্থাপন করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদের উল্লিখিত ৩টি জাহাজের মধ্যে ২টির খবর পাওয়া মাত্রই কোস্ট গার্ড তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে কোনো মালামাল বা যন্ত্রাংশ চুরি হয়নি, যার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে 'অনাপত্তি সনদ' (NOC) ও প্রশংসা পত্র প্রদান করেছে। ফলে ওই দুটি জাহাজ থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম লুটের যে দাবি পত্রিকায় করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য।
তৃতীয় জাহাজটির বিষয়ে কোস্ট গার্ড জানায়, ঘটনার সময় তাদের বিষয়টি জানানো হয়নি। ঘটনা ঘটার প্রায় ৭ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর শিপিং এজেন্ট বিষয়টি অবহিত করলে সঙ্গে সঙ্গে একটি বোর্ডিং টিম পাঠিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী এসব জাহাজে নিবন্ধিত ওয়াচম্যান (পাহারাদার) মোতায়েন থাকার কথা থাকলেও ঘটনার সময় কোনো অনুমোদিত ওয়াচম্যান দায়িত্বে ছিল না, যা একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ফাঁক তৈরি করেছে।
এ ধরনের ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের সামুদ্রিক সুনাম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে নেওয়ার জন্য গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
সমুদ্রে অপরাধের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি পুনর্ব্যক্ত করে কোস্ট গার্ড জানায়, গত ৬ মাসে বাহিনীর পূর্ব জোন ৩,৪৮৫টি টহল এবং ১১২টি সফল অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মালামালসহ ৩৪ জন চোরাকারবারি ও জলদস্যু/চোরকে আটক করেছে। সংস্থাটি উল্লেখ করে যে, দুষ্কৃতকারীরা প্রায়শই মাছ ধরার নৌকা বা অন্যান্য ছদ্মবেশে নোঙর করা বাণিজ্যিক জাহাজের চারপাশে ঘোরাফেরা করে। গভীর নজরদারির ধারাবাহিকতায় গত রাতে বিসিজি আউটপোস্ট পতেঙ্গা একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করেছে।
উপকূলীয় ও নদীপথে জলদস্যুতা, চুরি ও চোরাচালান দমন এবং নীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে কোস্ট গার্ড।
জনবল, বোট ও বিশেষায়িত সরঞ্জামের বর্তমান সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মিডিয়া কর্মকর্তা আরও জানান, দুটি সর্বাধুনিক হেলিকপ্টার সংগ্রহ ও জনবল বৃদ্ধি সহ সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাহিনীর অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

