ডার্ক মোড
Friday, 25 September 2026
ePaper   
Logo
লালমনিরহাটে ১৫০ কোটি টাকায় আধুনিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

লালমনিরহাটে ১৫০ কোটি টাকায় আধুনিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

মো. লাভলু শেখ, লালমনিরহাট

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাটে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

রবিবার বিকেলে লালমনিরহাট শহরের মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের নবনির্মিত ছয়তলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, এ প্রকল্পের জন্য সরকার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে এবং আগামী বছরের মধ্যেই এর বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলাটির ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রী দুলু উল্লেখ করেন, সীমান্তসংলগ্ন হওয়ার কারণে লালমনিরহাটে মাদকের প্রবেশের ঝুঁকি বেশি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার করার মাধ্যমে সম্ভব নয়—এর জন্য প্রয়োজন চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারণার সমন্বিত পদক্ষেপ।

তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে দুলু বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

'আলোকিত লালমনিরহাট' উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক, বাল্যবিয়ে, যৌতুক, জুয়া, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে, যা লালমনিরহাটকে অপরাধ প্রতিরোধে একটি মডেল জেলায় রূপান্তর করতে পারে।

বাল্যবিয়ে প্রসঙ্গে মন্ত্রী পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির ফলে মেয়েরা উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ক্ষমতাবান হচ্ছে।

মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমিক মান ও ফলাফলের প্রশংসা করে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, সুশৃঙ্খল প্রশাসন, পরিচালনা ও দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে প্রতি বছর চমৎকার ফলাফল অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি লালমনিরহাটের অন্যতম সেরা কলেজ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ.কে.এম. মোমিনুল হক, উপাধ্যক্ষ ও আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম, প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম সাদেকি বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠান শেষে কলেজের ছাত্রীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা মন্ত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপভোগ করেন।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন