ডার্ক মোড
Monday, 29 June 2026
ePaper   
Logo
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তার  চুক্তি ঘিরে প্রশ্ন

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তার চুক্তি ঘিরে প্রশ্ন

 
নিজ্বস প্রতিনিধি
 
দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত একটি সমঝোতা চুক্তির বিষয়টি সামনে এসেছে, যা আর্থিক খাতে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চুক্তির কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।  নথি অনুসন্ধান করে জানা গেছে, তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ২১ কোটি টাকা গ্রহণের সম্মতি দেন এবং ১৪ মাসের মধ্যে দ্বিগুণ অর্থাৎ ৪২ কোটি টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।
নথিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১০০ শতাংশ মুনাফাসহ অর্থ পরিশোধের শর্ত সংযুক্ত রয়েছে। আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প সময়ে এমন উচ্চ হারে রিটার্ন অস্বাভাবিক এবং এ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রকৃতি, ঝুঁকি ও অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। তবে নথিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ রয়েছে, সমঝোতা চুক্তির পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব থেকে একাধিক ব্ল্যাংক চেক স্বাক্ষর করে প্রদান করেছেন। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্বস্বাক্ষরিত বা ফাঁকা চেক ইস্যু করা হলে তা অপব্যবহার বা অননুমোদিত লেনদেনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের আর্থিক খাতে বড় অঙ্কের অস্বাভাবিক লেনদেন সাধারণত নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় পর্যালোচনার বিষয় হয়ে থাকে। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা নৈতিকতা, স্বার্থসংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণবিধি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে—বিশেষত যদি সংশ্লিষ্ট লেনদেন সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত হয়।তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। বিষয়টি যাচাইসাপেক্ষ হলেও, উত্থাপিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালক বলেন, তিনি তৃতীয় পক্ষের অনুরোধে সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছিলেন। ব্ল্যাংক চেক সংক্রান্ত প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব তিনি দেননি। চেক হারিয়ে গেছে কি না বা এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর দেননি। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান পুলিশের মহাপরিদর্শক তার আত্মীয়।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগে উল্লিখিত কর্মকাণ্ড সত্য প্রমাণিত হলে তা একজন উচ্চপদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তার পেশাগত নীতিমালা ও প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধানের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একটি মাত্র চুক্তির উদাহরণই সম্ভাব্য অনিয়ম বা আর্থিক অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পদের বিবরণ, বিভিন্ন ব্যাংকে রক্ষিত হিসাব এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস ও পরিমাণ পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিষয়টির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে ব্যাংকের নিজস্ব তদন্ত কমিটি এবং দুর্নীতি দমন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান পরিচালনা করা জরুরি হতে পারে

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন