ডার্ক মোড
Tuesday, 01 September 2026
ePaper   
Logo
আমতলী পৌর লেকের সৌন্দর্যবর্ধন কাজে অনিয়মের অভিযোগ  সাড়ে ১২ কোটি টাকার প্রকল্পের ওয়াকওয়ের ড্রপওয়াল ধসে পড়েছে

আমতলী পৌর লেকের সৌন্দর্যবর্ধন কাজে অনিয়মের অভিযোগ সাড়ে ১২ কোটি টাকার প্রকল্পের ওয়াকওয়ের ড্রপওয়াল ধসে পড়েছে

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
বরগুনার আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন লেকের ওয়াকওয়ের একটি ড্রপওয়াল ধসে পড়েছে।

রোববার সকালে লেকের ওয়াকওয়ের কাজ চলাকালে ড্রপওয়ালের একটি অংশ ধসে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে ঠিকাদারের লোকজন ধসে যাওয়া অংশ পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই প্রকল্পের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে নির্মাণাধীন অবস্থাতেই ওয়াকওয়ের ড্রপওয়াল ধসে পড়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকল্পের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ঝালকাঠির ইসলাম ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির নামে কাজ দেওয়া হলেও প্রকল্পের মূল কাজ সাবেক পৌর মেয়র ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিয়ার রহমানের লোকজন পরিচালনা করছেন।

২০২৪ সালের ৩০ জুলাই কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি। পরে ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর তৎকালীন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ স্থানীয়রা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

রোববার ওয়াকওয়ের ড্রপওয়াল ধসে পড়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি ও তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের কাজে বাধা এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে ঠিকাদারের লোকজনের বিরুদ্ধে। সাংবাদিক নাসরিন শিপু, রিমন ও রাসেল এ অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারের ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র, ব্যক্তিগত সহকারী পান্নু মোল্লা ও তাদের সহযোগীরা ছবি তুলতে বাধা দেন।

স্থানীয় শাহীন, নুরুল ইসলাম ও সাইদুজ্জামান বলেন, কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করে আসছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন নির্মাণাধীন অবস্থায় দেয়াল ধসে পড়ায় অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

তবে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মো. খাইরুল আজাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার লাইসেন্স দিয়ে কাজ নেওয়া হয়েছে, এটা সত্য। তবে কাজ করেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান। সেখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

সাবেক পৌর মেয়র ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান ওয়াকওয়ের ড্রপওয়াল ধসে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, মূল পিলার বা পাইলিংয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সেন্টারিংয়ের কাঠ বা সাপোর্ট খুলে যাওয়ার কারণে ঢালাইয়ের অংশটি কিছুটা ধসে পড়েছে। যে অংশটিতে সমস্যা হয়েছে, সেটির কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, বিপুল অর্থের এ প্রকল্পের নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন