বরিশালে ডা. অমিতাভের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ: জিম্মি হাজারো রোগী ও তিন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের নিউরোমেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো, কমিশন বাণিজ্য, সরকারি কর্মঘণ্টায় বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখা ও শেয়ার জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. মাসুম নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগপত্রে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বরিশালের বেলভিউ হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিকেল সার্ভিসেস, রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল এবং কেএমসি হাসপাতালের সাথে ডা. অমিতাভ সরকারের পরোক্ষ ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি সরকারি হাসপাতাল ও চেম্বারে আসা রোগীদের অপ্রয়োজনে সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন টেস্ট দিয়ে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পাঠান এবং মোটা অঙ্কের কমিশন নেন। প্রতারণার কৌশল হিসেবে কমিশনের কিছু অংশ ‘লেস’ বা ছাড় লিখে রোগীদের বিভ্রান্ত করা হয়। এছাড়া, সুস্থ রোগীদের অপ্রয়োজনীয় ফিজিওথেরাপি দিয়ে নির্দিষ্ট সেন্টারে পাঠানো, বেসরকারি হাসপাতালের বেড ভাড়া ও ডাক্তার রাউন্ডের ফি থেকেও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি দালালের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠান এবং সরকারি কর্মঘণ্টার মধ্যেই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেন। এতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সাধারণ চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চিকিৎসা বাণিজ্যের পাশাপাশি বেলভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও শেয়ার সংক্রান্ত বিষয়েও তার বিরুদ্ধে প্রಭಾವ বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। বৈধ কমিটি ভেঙে নিজে চেয়ারম্যান হওয়ার চেষ্টা ও শেয়ার ক্রয়ে আর্থিক অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয় অভিযোগপত্রে। এমনকি তার আয়কর নথিতে ধরা পড়া অনিয়মও অর্থের বিনিময়ে রফা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে আইন ভেঙে শেয়ার ক্রয়, ওষুধ কোম্পানির অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও কমিশন বাণিজ্যের তদন্ত করে তাকে দ্রুত বদলি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ডা. অমিতাভ সরকার। তিনি দাবি করেন, "আমার নামে বেলভিউ বা কেএমসি হাসপাতালে কোনো শেয়ার নেই। আমি কোনো পরীক্ষা থেকে কমিশন নিই না, রোগীদের ডিসকাউন্টের জন্য টেস্ট স্লিপে লিখে দিই। ওষুধ কোম্পানির সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। সরকারি হাসপাতালে সঠিক নিয়মেই ডিউটি করি এবং বেলা ২টার পরই কেবল বেসরকারি হাসপাতালে যাই। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে লিখিত কোনো অভিযোগের কথা আমি এখনো জানি না।"

