ডার্ক মোড
Tuesday, 01 September 2026
ePaper   
Logo
রেল ডিজি আফজাল হোসেনের দুর্নীতির অনুসন্ধানে নির্দেশ, মেগা প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ  ​

রেল ডিজি আফজাল হোসেনের দুর্নীতির অনুসন্ধানে নির্দেশ, মেগা প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ​

বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, নিয়োগ জালিয়াতি, মেগা প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম ও বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার সংগঠন 'সোসাইটি ফর এনফোর্সমেন্ট অব বেসিক রাইটস' (এসইবিআর)-এর মহাসচিব মো. হেমায়েত হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গত ২২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আছিনুর জাহান নীলা স্বাক্ষরিত এক স্মারকে (স্মারক নং-০৫.০০.০০০০.০০০.১৮১.২৭.০০২৪.২৫.৪৫১) এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে হেমায়েত হোসেনের লিখিত আবেদনের ছায়ালিপি যুক্ত করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর আগে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৩ শাখা থেকে প্রকাশিত পৃথক এক স্মারকে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া এসইবিআর-এর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস ১০ম ব্যাচের সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১ম স্থান অধিকারী ও বুয়েটের শিক্ষার্থী পার্থ সরকারকে বাদ দিয়ে ২২তম স্থানে থাকা ৩য় গ্রেডের কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেনকে সব বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ পদ ‘মহাপরিচালক’ করা হয়। এছাড়া তিনি ৪র্থ গ্রেডে থাকা অবস্থায় জ্যেষ্ঠ অফিসারদের ডিঙ্গিয়ে বেআইনিভাবে ২য় গ্রেডের ‘পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প’-এর পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পান।
অভিযোগে মেগা প্রকল্পসমূহে ভয়াবহ আর্থিক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বলা হয় যার মধ্যে রয়েছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে মূল চুক্তির আইটেম বাতিল করে ‘লাম্প সাম’ (Lump sum) মূল্যে প্রাক্কলন বাড়িয়ে দেওয়ায় সরকারের সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি উঠেছে, যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬-এর সরাসরি লঙ্ঘন।

এমব্যাঙ্কমেন্ট নির্মাণে পাথরের জায়গায় নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে ঠিকাদারকে শত কোটি টাকার অবৈধ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

খুলনা-মোংলা পোর্ট রেলপথ প্রকল্পের পরিচালক থাকাকালে তিনি ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিম্নমানের কাজ সম্পাদন এবং রূপসা সেতু নির্মাণে চুক্তি মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।


ভুয়া বিল ও পাথর কেলেঙ্কারি:

প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম) পদে থাকাকালে মাত্র ২৫-৩০% পাথর সরবরাহ নিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারের ৩.৪০৯৪ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক দুর্নীতির তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার 'ক্লিয়ারেন্স' ছাড়াই তাকে ডিজি পদে বসানো হয়। তিনি ও তার সহযোগীরা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়াও তিনি পছন্দের সিন্ডিকেট ও ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে অধস্তন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন, যা সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ১৯৭৯-এর পরিপন্থী।

জনস্বার্থে ও সরকারি চাকরি বিধিমালা রক্ষায় এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক মো. আফজাল হোসেনের অবৈধ পদোন্নতি বাতিল ও মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির বিচারে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন এসইবিআর মহাসচিব মো. হেমায়েত হোসেন।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন