বরগুনার নদী-খাল রক্ষা ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, খাল-নদীর নাব্যতা সংকট ও পানি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি।
আজ (বুধবার) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির তৃতীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) চলমান কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়।
আলোচনায় উপকূলীয় জেলা বরগুনার মানুষের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে নদী ব্যবস্থাপনায় স্বল্পমেয়াদি ও পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যয়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। নদী শাসন ও ভাঙন প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণালব্ধ জ্ঞান এবং স্থানীয় বাস্তবতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের নদী, খাল ও জলাধারের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিতভাবে খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। বিভিন্ন সংস্থার পৃথক উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত নীতিমালার আওতায় নদী-খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বিপুল পরিমাণ পলি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত ও ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং নাব্যতা রক্ষায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে নৌযোগাযোগ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করা হয়।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো এবং পানির পুনঃব্যবহারের নীতি অনুসরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার চলমান সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন এবং গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।
কমিটির আলোচনায় বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশব্যাপী নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার আওতায় বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা বরগুনার জনগণের নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, নাব্যতা সংকট ও পানি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত চাহিদা পূরণে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাস্তবতা ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘদিনের ৫ হাজারের অধিক অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের শুরুতেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং পাউবোর প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাগণ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন
আপনি ও পছন্দ করতে পারেন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
আর্কাইভ!
অনুগ্রহ করে একটি তারিখ নির্বাচন করুন!
দাখিল করুন

