বরগুনার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদক-চাঁদাবাজমুক্ত জেলা গড়তে সাংবাদিকদের সঙ্গে চীফ হুইপের মতবিনিময়
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, “আপনাদের হাত দিয়েই এই জেলার উন্নয়ন হবে। বরগুনাকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে চাই। আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং নির্মূল এবং অনলাইন জুয়া বন্ধ করতে হবে।” এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার ( ১৭ ই অক্টোবর) বরগুনা জেলা সাংবাদিকবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চীফ হুইপ বলেন, বরগুনার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করতে চায়। এ জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরগুনার বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্লু ইকোনমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সবাই যেন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মা শিক্ষিত হলে সন্তানও শিক্ষিত হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে নারীশিক্ষা সম্প্রসারণে গৃহীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে চীফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। প্রতিশোধের পরিবর্তে মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চান।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, দেশে জ্বালানি তেল থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় পূর্ববর্তী সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির সমালোচনাও করেন তিনি।
বরগুনার স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, চিকিৎসক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো, শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিক্ষা অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের অধিকার সমান। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের অধিকার খর্ব করা যাবে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দুর্গাপূজায় ছুটির সময় বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরগুনায় চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিরোধী দলের এক ব্যক্তিকে আঘাতের অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
চীফ হুইপ আরও বলেন, লংমার্চ বা রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা কৃষির উন্নয়ন সম্ভব নয়; বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমেই মানুষের সমস্যার সমাধান করতে হবে। বরগুনার উন্নয়নে ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, “বরগুনার উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
মতবিনিময় সভায় বরগুনা জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জেলার উন্নয়ন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন
আপনি ও পছন্দ করতে পারেন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
আর্কাইভ!
অনুগ্রহ করে একটি তারিখ নির্বাচন করুন!
দাখিল করুন

