ডার্ক মোড
Friday, 16 October 2026
ePaper   
Logo
দেশের স্বার্থে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী :  ​১২ মাসে মবের হাতে প্রাণ গেল ২৪৯ জনের ​

দেশের স্বার্থে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী : ​১২ মাসে মবের হাতে প্রাণ গেল ২৪৯ জনের ​

নিজস্ব প্রতিনিধি

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দিন দিন মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, পিটিয়ে হত্যার মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন পেশার মানুষও।

গত ১২ মাসে মব সন্ত্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪৯ জন ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এই সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু করে পরবর্তী মাসগুলোতে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। জানুয়ারি মাসে ২৭টি মব সহিংসতার ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ২১ জন আহত হন।

ফেব্রুয়ারি মাসে ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১টিতে, যেখানে নিহত হন ১৬ জন এবং আহত হন ৩১ জন। মার্চে ৩৬টি ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হন। এপ্রিল মাসে মব সহিংসতার ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হন। মে মাসে ৪৫টি ঘটনায় ২৯ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত হন। জুনে সহিংসতার মাত্রা আরও বাড়ে; এই মাসে ৭৬টি ঘটনায় ৩৪ জন নিহত এবং ১২৬ জন আহত হন।

বিশেষ করে গত আগস্ট মাসে মব সহিংসতার ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে মব সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ৩৫ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১০৫ জন। এছাড়া সার্বিক বিচারে মব সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি নিহত ও আহতের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে।

বিগত ২০২৪ সালে গণপিটুনিতে মোট নিহত হয়েছেন ১২৮ জন, যেখানে ২০২৩ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ১৯৮ জন। গত ৯ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪০০ জনেরও বেশি সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। সামান্য চুরির সন্দেহ থেকে শুরু করে নানা অজুহাতে বা অভিযোগ উঠলেই মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলার মতো নৃশংসতা দেখা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অবক্ষয় এবং গুজবের দ্রুত বিস্তারই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মূল কারণ।

মানবাধিকার বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগ নিশ্চিত না করা গেলে এ ধরনের নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।

তারা বলছেন অবিলম্বে 'মব সন্ত্রাস ' বন্ধ না করলে পেশার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিনিয়োগ বিঘ্নিত হবে এবং হচ্ছে।

সাধারণ জনগণ মনে করেছিল অন্তবর্তীকালীন ইউনুস সরকারের সময় শুরু হওয়া মব সন্ত্রাস বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বন্ধ হবে কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সাধারণ জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনীতিতে সচল করা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য অবিলম্বে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন