নীলফামারী জলঢাকায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে ‘দলীয় করনের অভিযোগ
নীলফামারী সংবাদদাতা
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের জন্য পৌরসভাসহ ইউনিয়ন সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা বিএনপি ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ‘প্রেসক্রিপশন’ অনুযায়ী, সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল। শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬ এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ফ্যামিলি কার্ডের ইউনিয়ন সুপারভাইজার হিসেবে যাদের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলেন, জলঢাকা পৌরসভায় আবু সাঈদ সাকিল, যাকে জলঢাকা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, খুটামারা ইউনিয়নে ইমতিয়াজ চৌধুরী সুমন, যাকে ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে আছমা আক্তার, যিনি ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি রবিউল ইসলাম জনির স্ত্রী বলে দাবি করা হয়েছে, গোলনা ইউনিয়নে হাবিবুর রহমান, যাকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, শৌলমারী ইউনিয়ন রাশেদুজ্জামান বিএনপি নেতা মহসিন আলীর ছেলে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, গোলমুন্ডা ইউনিয়নে ফজলুল হক, যাকে বিএনপির কৃষক দলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং কৈমারী ইউনিয়নে রোকনুজ্জামান বাবু, যাকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপির নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কমিটি উপজেলা বিএনপি ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়ে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকা প্রস্তুত করেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না, তা দেখলে বুঝা যাচ্ছে সত্যতা কতটুকু। এদিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিতকরণ নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব কামরুজ্জামানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন প্রার্থী। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ যদি আগে থেকেই নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক সুপারিশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ ও ভাইভা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যায়। ভাইভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য যদি রাজনৈতিক পরিচয়ই যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভাইভা নেওয়ার অর্থ কী? তাদের দাবি, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ দেওয়া হলে সাধারণ প্রার্থীদেরও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ সৃষ্টি হতো। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বাছাইয়ে যদি কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে, তাহলে পুরো কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিয়েই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পরিবার, আয়-ব্যয় ও আর্থসামাজিক অবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তাদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব হলো দল-মত নির্বিশেষে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক সুপারিশ বা প্রভাবের সুযোগ থাকলে তা শুধু প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করবে না, বরং সরকারি কর্মসূচির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিযোগকারীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রকাশিত ফলাফল, ভাইভায় প্রাপ্ত নম্বর, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং নির্বাচনের ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজন হলে।পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি মুটো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

