জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া ভোটের ‘কোনো সম্ভাবনা নেই’: জামায়াত আমির
নিজস্ব প্রতিবেদক
যারা ‘জুলাই বিপ্লব’ মানবেন না, তাদের জন্য ২০২৬ সালে ‘কোনো নির্বাচন নাই’ বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তার ভাষায়, “জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি দিতে হলে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতেই হবে। এই আইনিভিত্তি ছাড়া কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।”
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারি ও আগামী নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজন, নির্বাচনে সকলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে মঙ্গলবার ঢাকার পল্টন মোড়ে আয়োজিত জামায়াতসহ আট দলের সমাবেশে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে ২৮ অক্টোবর বিস্তারিত সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দুটি বিকল্প উপায় বাতলেও গণভোটের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, সেটা সংসদ নির্বাচনের দিনেও হতে পারে, নির্বাচেনের আগেও হতে পারে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে।
সরকার কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে সুপারিশ হাতে পাওয়ার ছয় দিনের মাথায় এসে গত ৩ নভেম্বর দলগুলোকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানায়; সময় দেয় এক সপ্তাহ।
জামায়াতের আমির বলেন, “আমাদের দাবি কম এবং খুবই সুস্পষ্ট। জুলাই সনদকে স্বীকৃতি দিতে হবে। যারা জুলাই বিপ্লব মানবেন না, তাদের জন্য ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচন নাই। ২০২৬ সালের নির্বাচন দেখতে হলে আগে জুলাই বিপ্লবকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
“আর জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি দিতে হলে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতেই হবে। এই আইনিভিত্তি ছাড়া কোন নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।”
দুপুর ২টায় পল্টন মোড়ের সমাবেশে জড়ো হন জামায়াত ও তাদের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ইসলামী আন্দোলনসহ অপর দলগুলোর নেতাকর্মীরা।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করছে। ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট দাবি করেন জামায়াত আমির বলেন, “গণভোটের ব্যাপারে সকল দল একমত, তাহলে তারিখ নিয়ে এই বায়নাবাজি কেন? একমত হয়ে যখন স্বাক্ষর করেছি সবাই, তখন গণভোট আগে হওয়াই হচ্ছে যুক্তিযুক্ত।
“এরমধ্য দিয়ে আইনিভিত্তির পাটাতন তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ এবং এর ভিত্তিতেই আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হবে তখন আর কোনো সংশয় সন্দেহ থাকবে না।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এইটা নিয়ে কেউ ধুম্রজাল সৃষ্টির চেষ্টা চালাবেন না। ‘উদর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ ফেলবেন না।”

