জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ এবং পুনর্বাসনে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা বাস্তবায়ন, শহীদ পরিবারগুলোর উপযুক্ত পুনর্বাসন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের মানসম্মত চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, এমপি।
বুধবার সকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি'-র প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মন্ত্রণালয় এবং নতুন গঠিত 'জুলাই অধিদপ্তর'-এর মাধ্যমে প্রতিটি শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধার কল্যাণে কোনো প্রকার অবহেলা ছাড়াই কাজ পরিচালনা করা হবে।
জুলাই সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গঠনে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি আহতদের চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, শহীদ ও যোদ্ধাদের তালিকা সংক্রান্ত যেকোনো ভুলত্রুটি বা অভিযোগ অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে তদন্ত করে সংশোধন করা হচ্ছে। আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে যাচাইকরণ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদ পর্যালোচনার পর ক্ষেত্রবিশেষে জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিকিউরিটি ভেটিং সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর'-এর সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসন-৩৪৫-এর সংসদ সদস্য এবং জুলাই শহীদ জাবিরের মা রোকিয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মনোনীত প্রতিনিধি এবং শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের মনোনীত প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। বৈঠকে শহীদ ও যোদ্ধাদের নিখুঁত তালিকা পর্যালোচনা এবং তাঁদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

