ডার্ক মোড
Thursday, 10 September 2026
ePaper   
Logo
সুন্দরবনের 'নানা ভাই বাহিনী'র প্রধানসহ ১২ জলদস্যুর বিপুল অস্ত্র ও গুলিসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনের 'নানা ভাই বাহিনী'র প্রধানসহ ১২ জলদস্যুর বিপুল অস্ত্র ও গুলিসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ

খুলনা ব্যুরো

সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু দল 'নানা ভাই বাহিনী'র প্রধানসহ ১২ জন সক্রিয় সদস্য বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

কোস্ট গার্ড জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে পরিচালিত দুই বিশেষ অভিযান—'অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবনস' এবং 'অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড'-এর আওতায় এই বিশেষ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাট জেলার মোংলা থানাধীন ধানসিদ্ধির চর এলাকায় বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় জলদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।

এ সময় জলদস্যুরা তাঁদের ব্যবহৃত ১টি এইট-শুটার, ১টি সিক্স-শুটার, ১টি ফোর-শুটার, ১টি সাইড-হ্যামার, ১টি বোল্ট-অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এম-৩ গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, ২টি ওয়ান-শুটার এবং ২টি এয়ার গান জমা দেন। এর পাশাপাশি ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯টি খালি কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ৮ মিমি তাজা শেল, ৪১৩টি এয়ার গানের ছররা (পেলেট), ৪টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২টি এয়ার গানের ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি হস্তান্তর করা হয়।

আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা হলেন—খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬) [বাহিনী প্রধান], সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬); সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) এবং বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার আজিজুর রহমান (৪৫)।

এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে বাওয়ালি ও সাধারণ জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, ডাকাতি ও জলদস্যুতার সাথে জড়িত ছিল। কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, জলদস্যু বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে গ্রেপ্তার, ৪২ জন জিম্মি জেলেকে উদ্ধার এবং ছোটন সুমন, বড় জাহাঙ্গীর ও ছোটন জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু দলের মোট ৩৭ জন সক্রিয় সদস্যকে আত্মসমর্পণের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকা ও সুন্দরবনকে শতভাগ জলদস্যুমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা দিয়ে কোস্ট গার্ড জানায়, এখনও বনে সক্রিয় থাকা অবশিষ্ট বনদস্যুদের দ্রুত আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে; অন্যথায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন