সাংবাদিকদের নিয়ে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তার শাস্তির দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তার ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দ্রুত প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ফ্রন্টের আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্যসচিব শেখ জামাল এই প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তাঁরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে সাংবাদিকতার মতো একটি মহৎ পেশার প্রতি চরম অবমাননা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত গত ২৪ জুন (বুধবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফির একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লেখেন, “উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয় ও তার অধীনস্থ সাংবাদিকদের অন্তত এক অর্থ বছরের জন্য বাংলাদেশের ৬০০টি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের ভবন, বাথরুম এবং টয়লেট পরিষ্কার করার দায়িত্ব দেওয়া উচিত।”
এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন বক্তব্য অত্যন্ত বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য শুধু পুরো সাংবাদিক সমাজকেই হেয় প্রতিপন্ন করে না, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীন ও দায়িত্বশীল কার্যকারিতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষার্থে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে ডা. শাফির বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

