ডার্ক মোড
Tuesday, 29 September 2026
ePaper   
Logo
মেঘনা শাখা নদী থেকে ড্রেজারে বালু উত্তোলন, কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ

মেঘনা শাখা নদী থেকে ড্রেজারে বালু উত্তোলন, কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
 
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া পানির ঘাট এলাকায় মেঘনা নদীর শাখা ও সংযোগ খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই মাস ধরে বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদীর তীর, সরকারি খাসজমি, কৃষিজমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
 
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাছিয়া, পানির ঘাট, দানু হালদারের খেয়াঘাট, কানি বগার চর ও ভাঙ্গারটেকসহ কয়েকটি এলাকায় অন্তত আটটি ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
 
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে মো. হুমায়ুন হাওলাদারের একাধিক ড্রেজার রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ফারভেজ হাওলাদার, জনি সাদ্দার, মো. রাসেল বেপারী, মিন্টু মোল্লা, মো. হামিদ সরকার, রাসেল খলিফা, মো. দুলাল মোল্লা, মো. মারুফ হাসান পলাশ, সুমন বেপারী, রুবেল হাওলাদার, মহিউদ্দিন সোহাগ বেপারী ও মো. মফিজ সরকারের নামও স্থানীয়দের অভিযোগে এসেছে।
 
স্থানীয় বাসিন্দা আবু ছিদ্দিক বলেন, চরকাছিয়া এলাকার সরকারি খাল ও নদীর অংশে কয়েকটি ড্রেজার নিয়মিত চলছে। বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় তাঁর ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে ড্রেজার সরিয়ে বা ধ্বংস করা হলেও কিছুদিন পর আবার একই কার্যক্রম শুরু হয়।
 
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পানির ঘাট থেকে দক্ষিণে, বোরহান সরকারের বাড়ির পশ্চিম পাশে, মিয়ার হাটের পশ্চিমে এবং দানু হাওলাদারের খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নদী ও খাল থেকে বালু তোলা হচ্ছে।
 
তাঁদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর গতিপথে পরিবর্তন, তীরভাঙন বৃদ্ধি এবং আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
 
অভিযোগের বিষয়ে হুমায়ুন হাওলাদার ও মিন্টু মোল্লা খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে মহিউদ্দিন সোহাগ বেপারীসহ অভিযুক্ত কয়েকজনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
 
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানে অবৈধভাবে ব্যবহৃত ড্রেজারগুলো ধ্বংস করা হবে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন