মিথ্যা গুজবে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা: সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার, গ্রেপ্তার ৩২
মাসুদ রানা, বরিশাল অফিস:
মিথ্যা গুজবে ভিত্তি করে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় সার্বিক পরিস্থিতি এবং তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন (মিট দ্য প্রেস) করেছে বরিশাল জেলা পুলিশ। আজ ২৬ আগস্ট বরিশাল জেলা পুলিশ অডিটরিয়ামে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ, জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ হুমায়ুন কবির। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আলাউল হাসানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার পটভূমি ও মূল তথ্য:
মূল গ্রেপ্তার: গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি রিয়াজ ফকিরকে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
গুজব সৃষ্টি: থানা হাজতে থাকাকালে রিয়াজ ফকির নিজেই লোহার দরজায় আঘাত করে অসুস্থতার ভান করে। তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চক্রান্তকারীরা রিয়াজ ফকিরের "মৃত্যুর মিথ্যা গুজব" ছড়িয়ে দেয়।
থানায় আক্রমণ ও ক্ষয়ক্ষতি: গুজবের জেরে ২০০-৩০০ জনের এক উশৃঙ্খল জনতা থানায় আকস্মিক হামলা চালায়। দুষ্কৃতকারীরা ডিউটি অফিসারকে গুরুতর আহত করে, আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং ল্যাপটপ ছিনতাই করে। এ ঘটনায় মোট ৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি:
বিষয় বিস্তারিত তথ্য
মোট শনাক্তকৃত আসামি ৬০ জন (এজাহারনামীয় ৪৩ জন ও তদন্তে প্রাপ্ত ১৭ জন)
সর্বমোট গ্রেপ্তার ৩২ জন (১৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত আদালতে সোপর্দ)
পরবর্তী পদক্ষেপ সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও বিশ্লেষণ করে দ্রুত চার্জশিট দাখিল
পুলিশ সুপার জানান, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

