ডার্ক মোড
Saturday, 19 September 2026
ePaper   
Logo
মাদারীপুর আ.লীগ নেতা আতিক মাদবরের নেতৃত্বে বিএনপি-সংশ্লিষ্টদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

মাদারীপুর আ.লীগ নেতা আতিক মাদবরের নেতৃত্বে বিএনপি-সংশ্লিষ্টদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

মীর ইমরান, মাদারীপুরঃ
 
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের হুদু মোল্লার কান্দী এলাকায় বিএনপি-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিক মাদবরের বিরুদ্ধে। তাঁর নেতৃত্বে লোকজন নিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
 
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সাদ্দাম মোড়ল, দেলোয়ার মোড়ল ও জাহাঙ্গীর মোড়লের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় তিনটি বসতঘর ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
 
এ সময় একটি বসতঘরের আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগও উঠেছে। তবে লুট হওয়া মালামালের সঠিক পরিমাণ এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
 
এ ঘটনায় স্বপন ঢালী নামে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
 
রাজনৈতিক বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাঁদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে।
 
ভুক্তভোগী দেলোয়ার মোড়ল বলেন, ‘আমরা আগে আতিক মাদবরের সঙ্গে রাজনীতি করতাম। তাঁর কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে এখন আর তাঁর সঙ্গে রাজনীতি করি না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে তিনি আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন।
 
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছি।
 
দেশীয় অস্ত্রের মুখে হুমকির অভিযোগ
 
হামলার সময় মৃত্যু সুলতান মোড়লের স্ত্রীকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
 
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওই নারীর সরাসরি বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
 
হামলায় আহত স্বপন ঢালীর বক্তব্য
আহত স্বপন ঢালী বলেন, ‘আমি আমার মামাতো ভাইয়ের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
 
এ সময় হামলাকারীরা অতর্কিতভাবে আমার ওপর হামলা চালায়। এতে আমার মাথা ফেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
 
শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, আহত স্বপন ঢালীর মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।
 
তিন দিনেও মামলা না নেওয়ার অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও শিবচর থানায় তাঁদের মামলা গ্রহণ করা হয়নি।
 
তবে শিবচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানিয়েছেন, মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
 
এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিলের পর মামলা গ্রহণের বর্তমান অবস্থা এবং অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
 
১৬ সেপ্টেম্বরের সংঘর্ষের পর নতুন উত্তেজনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর কুতুবপুর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বেপারী বংশ ও মাদবর বংশের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া যায়।
এর পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি-সংশ্লিষ্ট সাদ্দাম মোড়ল, দেলোয়ার মোড়ল ও জাহাঙ্গীর মোড়লের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
 
পরপর এসব ঘটনার কারণে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
 
তবে ১৬ সেপ্টেম্বরের সংঘর্ষের সঙ্গে পরদিনের হামলার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে ।
 
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
একের পর এক সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের  প্রভাবশালী নেতাদের  বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
 
হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মাদবরের সঙ্গে যোগাযোগের  করা হলেও তিনি বলেন  নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের মারামারি হয়েছে সেখানে আমার সমর্থন কারী ছিল কিন্তু আমি ছিলাম না আমাকে দোষারোপ করা হচ্ছে আমি চাই সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
 
পুলিশের বক্তব্য
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘কুতুবপুরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় পুলিশের একাধিক টিম রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
 
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তবে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না, কতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এবং কাউকে আটক করা হয়েছে কি না এসব বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
 
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
 
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারছে কি না।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন