ডার্ক মোড
Thursday, 10 September 2026
ePaper   
Logo
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার ক্যান্টিনে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ: বন্দি ও রক্ষীদের ক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার ক্যান্টিনে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ: বন্দি ও রক্ষীদের ক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে বন্দীদের খাবারের নিম্নমান এবং অভ্যন্তরীন ও বাইরের ক্যান্টিন ঘিরে কোটি কোটি টাকার লুটপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের ভেতরের কয়েদি ও হাজতিদের সরকারি বরাদ্দকৃত নিম্নমানের খাবার গ্রহণে বাধ্য করে উচ্চমূল্যে ক্যান্টিনের খাবার কিনতে প্ররোচিত করা হয়।

এই ক্যান্টিন গুলোতে দোকান ভাড়া, কর্মচারী বেতন, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল কিংবা ভ্যাট-ট্যাক্সের কোনো রকম ব্যবসায়িক পুজি জেল কর্তৃপক্ষের না থাকা সত্ত্বেও বাজারে প্রচলিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ-ত্রিগুণ দামে পণ্য বিক্রি করছে জেল কর্তৃপক্ষ।
কারাগারের অভ্যন্তরে বিক্রি হওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যের দাম সাধারণ বাজারমূল্য থেকে বহুগুণ বেশি। যা দেখার যেনো কেউ নেই।

অভিযোগ সত্যতা জানতে গিয়ে দেখা যায়,প্রতিদিন তেল ছাড়া শক্ত ছোট সাইজের পরোটা ১০ টাকায়, পুরি ২০ টাকা , রং চা ১০ টাকা , ডিমঝোল এক পিস ৫০ টাকা,
নলা মাছ ছোট এক পিছ, শিং মাছ ২ পিস ছোট , কৈ মাছ এক পিস , পাবদা মাছ দুই পিস ১২০ টাকা করে, বয়লার মুরগি ছোট একটি টুকরো ১২০ টাকা, লেয়ার মুরগি একপিস ১৬০ টাকা, গরুর মাংস তিন পিস ২০০ টাকা, বিড়ি এক প্যাকেট ৩৫ টাকা, লাল মেহেদী ২০ টাকা গায়ের মূল্য থাকলেও বিক্রি হয় ৫০ টাকায়, কালো মেহেন্দি ১৮ টাকার মূল্য বিক্রি হয় ৩০ টাকা , দুই লিটার ফ্রেশ পানি ৫০ টাকা, লুঙ্গি এক পিস ৪৫০ টাকা, স্যান্ডেল একজোড়া ১৫০, নরমাল মেলামাইনের প্লেট ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রিসহ সকল পন্য উচ্চ মূল্য বিক্রি করা হয়।

অনেক হাজতির সাথে কথা বলে জানা যায়, ভিতরে বিক্রয়কৃত বেশিরভাগ পণ্যই মানহীন ও নিম্নমানের নকল পণ্য । বিগত দিনে বিড়ির ভিতরে কাঠের গুড়া ধরা পড়ার বিভিন্ন কান্ড রয়েছে। আর এইসব কারণে কোন প্রতিকার না পাওয়ায় হাজতি বন্দিদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা যায়! জেলখানায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ক্যান্টিনের প্রতি মাসের আয়ে লভ্যাংশের হিসাব দরবার হলে সকল কারা রক্ষিদের জানানোর কথা থাকলো তা করা হয় না।

কোটি টাকার লভ্যাংশ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধানে জানা যায় , দুটি ক্যান্টিন থেকে দৈনিক বিক্রি ও লভ্যাংশ দাঁড়ায় প্রায় দেড় থেকে ২ লক্ষ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি মাসে লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়ায় অর্ধকোটি টাকার কাছাকাছি। কারাবিধি অনুযায়ী, বন্দীদের পুঁজিতে পরিচালিত এই ব্যবসার লভ্যাংশের একটি অংশ অসহায় বন্দীদের ওষুধ, আইনি সহায়তা জামিন ও পোশাক কেনায় ব্যয় করার কথা। এছাড়া লভ্যাংশের অপর একটি অংশ দায়িত্ব পালনকারী কারারক্ষীদের মাঝে বন্টন এবং প্রতি মাসের আয়ের হিসাব 'দরবার'-এ প্রকাশের নিয়ম রয়েছে।

তবে বাস্তবে এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে জেলার ও তাঁর অনুগত একটি গোষ্ঠী নামমাত্র লাভ দেখিয়ে সিংহভাগ অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে কারারক্ষী ও বন্দীদের পক্ষ থেকে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

কারাগারের এই অনিয়ম ও অনৈতিক বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কারাগার দায়িত্বে নিয়োজিত এহসান মুরাদ জানান, বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং তিনি দ্রুত তদন্ত করে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আস্বস্ত করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার ক্যান্টিনে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ: বন্দি ও রক্ষীদের ক্ষোভ

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন