বন্যপ্রাণী অবৈধ পাচার রোধে সাওয়েনভুক্ত দেশগুলোর ‘কাঠমান্ডু ঘোষণা’ গ্রহণ
স্টাফ রিপোর্টার
দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যপ্রাণীর অবৈধ পাচার ও তৎসংশ্লিষ্ট আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ দমনে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ‘কাঠমান্ডু ঘোষণা’ সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করেছে ‘সাউথ এশিয়া ওয়াইল্ডলাইফ এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক’ (সাওয়েন)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো।
শুক্রবার নেপালের কাঠমান্ডুতে সাওয়েনের প্রথম সাধারণ সভার সমাপনী দিনে মন্ত্রী ও প্রতিনিধি দলের প্রধানগণ এই ঘোষণা গ্রহণ করেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো সাওয়েনের মূল নীতি ও উদ্দেশ্যসমূহ সমুন্নত রেখে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও দমনে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বন্যপ্রাণী পাচারের ক্রমবর্ধমান জটিলতা এবং এর সাথে দুর্নীতি, অবৈধ অর্থ প্রবাহ, সাইবার অপরাধ ও সীমান্ত নিরাপত্তার ঝুঁকির সমন্বয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এই ঘোষণায়। এসব হুমকি মোকাবেলায় গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক তদন্ত, আর্থিক অপরাধের অনুসন্ধান, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা, অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়া জোরদার করার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করে সদস্য রাষ্ট্রগুলো।
ঘোষণায় বন্যপ্রাণী অপরাধ ও বায়োপাইরেসি (জৈব জলদস্যুতা) রোধে বিজ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি, জিওস্প্যাশিয়াল টুলস এবং আঞ্চলিক গবেষণার তথ্য আদান-প্রদানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি পার্ক রেঞ্জার, কাস্টমস কর্মকর্তা, পুলিশ ও প্রসিকিউটরসহ সম্মুখসারির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কর্মদক্ষতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করা হয়।
সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, কোনো একক দেশের পক্ষে একা এই সংগঠিত বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। পাচারকারী চক্রগুলো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে জাতীয় সীমানা অতিক্রম করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়োপযোগী তথ্য বিনিময়, যৌথ তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট আর্থিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
বন্যপ্রাণীজাত পণ্যের অবৈধ চাহিদা কমাতে স্থানীয় সম্প্রদায়, নাগরিক সমাজ, তরুণ সমাজ এবং পরিবহন, লজিস্টিকস, ই-কমার্স ও পর্যটন খাতসহ বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার রূপরেখা তুলে ধরা হয় এই কাঠমান্ডু ঘোষণায়। এ ছাড়া প্রতি বছর ৩০ জানুয়ারিকে সমগ্র অঞ্চলে 'সাওয়েন দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।

