বন্ধ আর চালুর মধ্যেই রয়েছে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ৪০ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর ১নং ইউনিট আবার চালু \ জাতীয় গ্রীডে যোগ হচ্ছে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
মাহিদুল ইসলাম রিপন দিনাজপুর প্রতিনিধি
যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে প্রায় ৪০ ঘন্টা বন্ধ থাকার পর আবার চালু করা হয়েছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১নং ইউনিটটি। ইউনিটটি চালুর ফলে ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লা ভিত্তিক এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এখন জাতীয় গ্রীডে যোগ হচ্ছে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। প্রতিনিয়ত যান্ত্রিক ত্রুটি নানান জটিলতার কারনে ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কখনই কাঙ্খিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১নং ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে গত শনিবার (১ আগস্ট) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলীদের প্রায় ৪০ ঘন্টার নিরলস প্রচেষ্টায় যান্ত্রিক ত্রুটি দুর করে সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ১টা ৩০ মিনিটে ইউনিটটি আবার চালু করা হয়।
প্রধান প্রকৌশলী জানান, বর্তমানে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই ইউনিটটি থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়াও ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩নং ইউনিট থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে ১৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিট থেকে বর্তমানে উৎপাদিত ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে দেয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার উপর ভিত্তি করে খনির পাশেই ২০০৬ সালে গড়ে উঠে কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রথম অবস্থায় ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়। এরপর ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন আরেকটি (৩নং) ইউনিট চালু করে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু পর্যাপ্ত কয়লা মজুদ থাকা সত্বেও যান্ত্রিক ত্রুটির নানান জটিলতায় কখনই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি একসাথে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে পুরোপুরি বন্ধ থেকেছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন।
সুত্রটি জানায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটের মধ্যে ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ২নং ইউনিটটি। এরপর থেকে বাকী দুটি ইউনিট চালু আর বন্ধের মধ্যেই থাকে কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩নং ইউনিটটি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ওভারহলিং কাজের জন্য বন্ধ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সাত মাস ওভারহলিং কাজ সম্পন্ন করার পর চলতি বছরের ২০ মে ইউনিটটি চালু করা হয়। কিš‘ চালুর পর ৬টি বিয়ারিং নস্ট হয়ে যাওয়ায় পাঁচ দিনের মাথায় গত ২৫ মে আবার বন্ধ হয়ে যায় ৩নং ইউনিটটি। প্রায় একমাস ধরে আবার সংস্কারকাজ করে ইউনিটটি ২৩ জুন চালু করা হয়। এছাড়াও ১নং ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যাওয়ায় চলতি বছরের ২২ এপ্রিল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। অবশেষে ৪৬ ঘন্টা পর ২৪ এপ্রিল ১নং ইউনিটটি চালু করা হয়। এভাবেই বন্ধ আর চালুর মধ্যেই রয়েছে কয়লাভিত্তিক এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।
বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা ব্যবহার করে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন সচল রাখতে ছোটখাটো মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি তা করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বারবার উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রীডে কাঙ্খিত বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

