ডার্ক মোড
Monday, 05 October 2026
ePaper   
Logo
বগুড়ায় পূজা প্রস্তুতি সভায় হিন্দু নেতাদের বক্তব্য দেওয়া নিয়ে তোলপাড়: প্রতিবাদে ওয়াকআউট

বগুড়ায় পূজা প্রস্তুতি সভায় হিন্দু নেতাদের বক্তব্য দেওয়া নিয়ে তোলপাড়: প্রতিবাদে ওয়াকআউট

মো. রাকিল ইসলাম, বগুড়া

বগুড়ায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা ওয়াকআউট করায় তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সোমবার সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জেলার ১৩টি উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে পূর্বনির্ধারিত অন্য একটি কর্মসূচির অজুহাত দেখিয়ে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান মাত্র ৪-৫ জন উপজেলা পর্যায়ের নেতার বক্তব্য শোনার পর স্থানীয় প্রতিনিধিদের বক্তব্য স্থগিত করে সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দেন। এরপরই তিনি বক্তব্য দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের ফ্লোর ছেড়ে দেন।

মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিভিন্ন স্থানীয় দাবি-দাওয়া তুলে ধরার সুযোগ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। একপর্যায়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাসসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সভা ত্যাগ করে (ওয়াকআউট) কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

পরবর্তীতে প্রধান অতিথি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা মধ্যস্থতা করে বিক্ষোভকারী নেতাদের বুঝিয়ে পুনরায় মিটিং কক্ষে ফিরিয়ে আনলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ বিকাশ চন্দ্র সাহা বলেন, "আমাদের মাত্র কয়েকজন প্রতিনিধি কথা বলার পরই সংক্ষেপ করতে বলা হয়। এতে উপস্থিত সকলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।"

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করে বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, "জেলা প্রশাসনের সাথে অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক সভায় যোগ দিতে দূর-দূরান্তের উপজেলা থেকে প্রতিনিধিরা ৩০-৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসেন। শিক্ষক দিবসের জন্য সময়স্বল্পতা থাকলে জেলা প্রশাসক অন্য কোনো দিন সভার আয়োজন করতে পারতেন। আমাদের ডেকে এনে কথা বলতে না দিয়ে এভাবে অপমান করা ঠিক হয়নি।"

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, পূজা উদযাপন কমিটির জন্য নির্ধারিত পর্বে জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেননি। "পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য চলাকালে পর্যাপ্ত সময় পাননি বলে তারা অভিযোগ করেন। কিছুটা কষ্ট পেয়ে তারা বাইরে বের হয়ে গেলেও পরবর্তীতে অনুরোধ জানালে তারা পুনারায় সভায় যোগ দেন," বলেন জেলা প্রশাসক।

বগুড়ায় পূজা প্রস্তুতি সভায় হিন্দু নেতাদের বক্তব্য দেওয়া নিয়ে তোলপাড়: প্রতিবাদে ওয়াকআউট

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন