পল্লবীতে অটোচালক নিখোঁজ, গ্যারেজ মালিক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে স্বামীকে হত্যা, গুমের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী থানায় অটোরিক্সা চালক হারুন (৪০)-কে হত্যা ও লাশ গুম করার গুরুতর অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর স্ত্রী মোছাঃ আনোয়ারা বেগম (৪০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী হারুন পেশায় একজন অটোরিক্সা চালক এবং পল্লবী থানাধীন সেকশন-১২, ব্লক-ডি, কালপানী শাহীবাগ পূর্ব বস্তির বাসিন্দা। তিনি কালপানী রোড-৬, স্কুল ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত সাজাহানের গ্যারেজ থেকে ভাড়ায় অটোরিক্সা চালাতেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন মাস পূর্বে হারুন একটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। সেসময় এক প্যাসেঞ্জার তাকে মারধর করলে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সাজাহানের গ্যারেজের অটোরিক্সাটি ডাম্পিংয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অভিযোগ দায়েরের ৮ দিন পূর্বে (বৃহস্পতিবার) সাজাহানের স্ত্রী, মেয়ে, মেয়ের জামাই ও দুইজন ড্রাইভার হারুনের বাসায় এসে কথা আছে বলে ডেকে সাজাহানের গ্যারেজের ভেতরে নিয়ে উক্ত রিকশার ক্ষতির অজুহাতে তাকে বেধড়ক মারধর করে।
খবর পেয়ে আনোয়ারা বেগম গ্যারেজে গিয়ে স্বামীকে জামিনে ছাড়িয়ে আনেন।
পরের দিন (শুক্রবার) একই ব্যক্তিবর্গ পুনরায় বাসায় এসে কথা বলার অজুহাতে হারুনকে ডেকে গ্যারেজের ভেতরে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় শারীরিক নির্যাতন চালায়।
গত রবিবার আনোয়ারা বেগম গ্যারেজে গিয়ে তাঁদের কাছে স্বামীর অবস্থান জানতে চাইলে অভিযুক্তরা ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়ে তাঁকে তাড়িয়ে দেয়।
গত ২১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ রাত আনুমানিক ০৯.০০ ঘটিকায় আনোয়ারা বেগম পুনরায় সাজাহানের গ্যারেজে গিয়ে স্বামীর সন্ধান চাইলে অভিযুক্তরা তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে এবং স্বামীর মতো তাকেও হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয়। প্রাণের ভয়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।
অভিযোগকারীর ধারণা, সাজাহানের স্ত্রী, মেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের অমানুষিক মারধরের কারণে তাঁর স্বামী মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তারা লাশ লুকিয়ে রেখেছে। তিনি আশঙ্কা করছেন, পরবর্তীতে স্বামীর খোঁজে গ্যারেজে গেলে তাঁরও বড় ধরণের প্রাণহানি হতে পারে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ও নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে আনোয়ারা বেগম স্থানীয় প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের সাথে পরামর্শ করে থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

