ডার্ক মোড
Saturday, 12 September 2026
ePaper   
Logo
৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: রেলওয়ের ডিজি আফজালসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: রেলওয়ের ডিজি আফজালসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশ রেলওয়েতে ৮৬৩ জন খালাসী পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আদালতের নির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত ৬ আগস্ট বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স জান্নাত কনসোর্টিয়াম'-এর প্রতিনিধি মো. হুমায়ুন দুদক চেয়ারম্যানের কাছে এ অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে ৮৬৩ জন খালাসী পদের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৮৬৩ জন খালাসী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর মধ্যে পোষ্য কোটার জন্য সংরক্ষিত ৩১১টি পদের বিপরীতে ৩০৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং উপযুক্ত প্রার্থীর অভাবে ২টি পদ শূন্য থাকে। পরবর্তীতে বঞ্চিত কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী আদালতের শরণাপন্ন হলে মামলাটি বিভিন্ন ধাপে আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়।

আদালত পোষ্য কোটা বজায় রেখে আবেদনকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দিলেও, রায় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে পরবর্তীতে ৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। আদালতের এই রায়ের সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্য রেখে নিয়োগগুলো দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাকে অনুরোধ জানান আবেদনকারী।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে গঠিত তিন সদস্যের একটি যাচাই-বাছাই কমিটি ১৩২ জন রিট আবেদনকারীর নথি পরীক্ষা করে মাত্র ২৪ জনের নথিপত্র সঠিক পায়।

কমিটির প্রতিবেদনে ৪২ জন ভুয়া রিট আবেদনকারীকে শনাক্ত করা হয়। এছাড়া ১৪ জন নিয়োগ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন, ৬ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি, ১১ জন পোষ্য কোটায় আবেদন করেননি এবং ৩৩ জন যাচাই-বাছাই কমিটির সামনে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন।

যাচাই-বাছাই প্রতিবেদনের এমন নেতিবাচক ফলাফল সত্ত্বেও কোন আইনি ভিত্তিতে ও কার অধিকারে ৬৬ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী এবং দুদকের কাছে এ বিষয়ে বিশদ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত আবেদনে "বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি" নামে একটি অননুমোদিত সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগে বলা হয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ রেলওয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও সংগঠনটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং নিজেদের সুবিধামতো আদালতের আদেশ উপস্থাপন করে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া আপিল বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে একটি রিভিউ পিটিশন আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নিয়োগপত্র জারির বৈধতা নিয়েও আবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন ছাড়াও অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান, নতুন রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন অ্যানাউন্সার দেলোয়ার হোসেন বাপ্পি এবং পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের আইন কর্মকর্তা মো. আল মাহমুদ।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী মো. হুমায়ুন বলেন, "নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে অনিয়ম ও অসঙ্গতি ঘটেছে তার সত্যতা উন্মোচনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃত সত্য প্রকাশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই দুদকে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।"

যোগাযোগ করা হলে দুদক সদর দপ্তরের মহাপরিচালক (তদন্ত ও অনুসন্ধান-১) মুহাম্মদ রেজাউল কবির জানান, অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছানোর পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন