ডার্ক মোড
Wednesday, 21 October 2026
ePaper   
Logo
২৭ সালে আরও ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালু হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২৭ সালে আরও ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালু হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শাহিনুর রহমান সোনা, রাজশাহী

বন্ধ কল-কারখানা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বিএনপি সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

জনসভায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য মোট ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে ডিজিটাল বোতাম চেপে একযোগে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেন আবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়—এই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১২ মাসে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে আরও প্রায় ৪৬টি বন্ধ কল-কারখানা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

 

তিনি বলেন, শ্রমিকরা যাতে বেকার না থাকে এবং কাজ করে টিকে থাকতে পারে, সে লক্ষ্যেই বন্ধ কল-কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

 

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি কল-কারখানাগুলো চালু হোক। আমরা দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করছি, বিদেশি উদ্যোক্তাদেরও বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।’

 

কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা, ফসলের বীমা, ব্যাংক ঋণ এবং আবহাওয়ার তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকবে। কৃষি বাঁচলে, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। সে কারণেই আমরা কৃষক ভাইদের একটি কার্ড দিতে চাই, যেটির নাম হচ্ছে ফার্মার্স কার্ড বা কৃষক কার্ড।’

 

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি পরিবারকে মায়ের নেতৃত্বে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই। একটি গ্রামের পরিবার আত্মনির্ভরশীল হলে ধীরে ধীরে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং সবশেষ সারাদেশ আত্মনির্ভরশীল হবে।’

 

স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যেকটি উপজেলা হাসপাতালের বেড সংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করা হবে। সেখানে শিশু ও নারীদের জন্য আলাদা বেড এবং ডায়ালাইসিস সুবিধা রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

 

রাজশাহীর পানির সংকট সমাধানে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দুটি নদীতে আমরা ব্যারাজ তৈরি করব, যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা দূর করতে পারি। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ হলে রাজশাহীসহ আশপাশের অঞ্চল এবং প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবে।’

 

দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ এখন চায় একটি স্থিতিশীলতা। জনগণ চায় তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। জনগণ চায় শান্তিতে দেশকে এগিয়ে নিতে।’

 

জনসভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, নিপুন রায় এমপি, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এমপি, আবু সাঈদ চাঁদ এমপি, এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এমপি, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন উর রশীদ প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।

২৭ সালে আরও ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালু হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন