শেরপুর সীমান্ত দিয়ে ৬ ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা নস্যাৎ করল বিজিবি
শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ৬ জন ভারতীয় নাগরিককে পুশ-ইন (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ) করার একটি ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) চেষ্টা সফলভাবে নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শনিবার (৬ জুন, ২০২৬) সকালে রামচন্দ্রকুড়া বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) আওতাধীন প্রধান সীমান্তরক্ষা পিলার ১১৮-এর নিকটবর্তী জিরো-লাইন এলাকায় এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হয়। বিএসএফ সদস্যরা ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে প্রায় ৪০০ গজ ভেতরে অবস্থান নেওয়া ৬ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করেন। তবে বিজিবি টহল দল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সুসমন্বিত প্রতিরোধের মুখে সেই প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নূরুল আজিম বায়েজীদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে ওই ৬ ব্যক্তিকে বিএসএফের ২২ ব্যাটালিয়নের বাউরামবিল ক্যাম্পের আওতাধীন চেরাংপাড়া এলাকায় নিয়ে আসা হয়। বিএসএফ সদস্যরা একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সাথে যোগসাজশ করে আন্তর্জাতিক সীমান্তের একটি কাঁটাতারহীন অংশ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চক্রান্ত করেছিল। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে কৌশলগত প্রতিরক্ষা জোরদার করে, যার ফলে বিএসএফ পিছু হটতে এবং তাদের এই কার্যক্রম বাতিল করতে বাধ্য হয়।
বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, এই ঘটনার পর ওই সেক্টরের সকল সীমান্ত ফাঁড়িতে জনবল ও নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখতে ঝুঁকিপূর্ণ করিডোরগুলোতে চব্বিশ ঘণ্টা কৌশলগত নজরদারি এবং সশস্ত্র টহল সক্রিয় করা হয়েছে।
একই সাথে, সীমান্ত কর্তৃপক্ষ মাইকিংয়ের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার জনগণকে সচেতন করছে এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে জরুরি সচেতনতামূলক সভা পরিচালনা করছে। এছাড়া এই আন্তঃদেশীয় পাচার চক্রের সহায়তাকারী স্থানীয় বাংলাদেশী দালাল ও মানবপাচারকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য বিজিবি গোয়েন্দা দল বিশেষ তথ্যদাতা নিয়োজিত করেছে।
সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নূরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা তৎপর রয়েছে। মাদক চোরাচালান, বাণিজ্যিক অবৈধ পণ্য পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জোরপূর্বক পুশ-ইনের চেষ্টার বিরুদ্ধে সীমান্ত বাহিনী জিরো-টলারেন্স নীতি বজায় রাখছে এবং সীমান্তরেখা জুড়ে কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।

