ডার্ক মোড
Wednesday, 22 July 2026
ePaper   
Logo
বন্যার আশঙ্কা: বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে যাদুকাটা ও সুরমার পানি

বন্যার আশঙ্কা: বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে যাদুকাটা ও সুরমার পানি

হাবিব সরওয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ 

টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার দিনভর জেলা সদর, তাহিরপুর এবং আশপাশের এলাকার সীমান্তবর্তী নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, চেরাপুঞ্জি ও উজানের অববাহিকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে তাহিরপুরের যাদুকাটা, পাটলাই, বগলী ছড়া ও কালাগাঁও ছড়া; জগন্নাথপুরের নলজুর ও কুশিয়ারা এবং দোয়ারাবাজারের চেলা ও খাসিয়ামারা নদীর পানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে সোমবার বিকেল ৩টায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৭.৫৩ মিটার, যা মাত্র ছয় ঘণ্টায় ২২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত ৭ জুলাই জেলাটিতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।

ইতিমধ্যেই একাধিক উপজেলায় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। সোমবার বিকেলে ছাতক উপজেলা সংলগ্ন সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার (৮.৭০ মিটার) ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ৮.৯০ মিটারে পৌঁছায়। একইভাবে দিরাই উপজেলার মারকুলিতে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমা ৩ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ৭.৮ মিটারে দাঁড়িয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড়, চাঁদপুর, বড়ছড়া, চারাগাঁও, কালাগাঁও এবং বগলীসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে রবিবার গভীর রাত থেকে হঠাৎ আসা পাহাড়ি ঢলে গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হয়েছে এবং ঘরবাড়ি ও বাজারের দোকানপাট ভেসে গেছে। দোয়ারাবাজারের বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দারাও একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন; সেখানে খাসিয়ামারা, মৌলা ও চেলা নদীর উপচে পড়া পানিতে নিচু এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, চলমান বৃষ্টির কারণে পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এখনই দেশব্যাপী বড় কোনো বন্যার পূর্বাভাস নেই। তবে যাদুকাটার মতো স্থানীয় নদীগুলোর পানি সাময়িকভাবে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান আশ্বাস দিয়েছেন যে, জেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ১,৩১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত নৌকা, উদ্ধারকর্মী (ভলান্টিয়ার) এবং ১,০৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১২টি উপজেলার প্রতিটিতে ১,২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং জিআর (General Relief) চাল পাঠানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সবকটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) সক্রিয় রয়েছে এবং স্থানীয় হাওর এলাকায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন