ডার্ক মোড
Sunday, 13 September 2026
ePaper   
Logo
সাতক্ষীরায় কুখ্যাত মাদক সম্রাট জিয়ার গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে জনতা: প্রেসক্লাবে উত্তাল মানববন্ধন

সাতক্ষীরায় কুখ্যাত মাদক সম্রাট জিয়ার গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে জনতা: প্রেসক্লাবে উত্তাল মানববন্ধন

শাহ জাহান আলী মিটন,  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
এলাকায় প্রকাশ্য মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় নিরীহ নাগরিকদের ওপর বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা। চিহ্নিত মাদক কারবারী, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমান জিয়াসহ তার বাহিনীর অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে ৯ নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এমএ হাসানের সভাপতিত্বে এবং মোঃ রাশিদুল ইসলামের সুচারু সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দহাকুলা বায়তুর মামুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফজলে রাব্বী, বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ আজমল হোসেন, ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ল কলেজ স্টুডেন্ট ফোরামের সেক্রেটারি মোঃ আবুল হাসান, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ ইনছাপ আলী এবং সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ হাতেম আলীসহ আরও অনেকে।
মাদক কারবারী জিয়া বাহিনীর নৃশংসতা:
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে ব্রহ্মরাজপুর বাজারে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়া, ফাহিম, হাফিজুল ও ফারুকের প্রকাশ্য মাদক বিক্রির তীব্র প্রতিবাদ করেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকার নিরীহ বাসিন্দা জাকির হোসেন ও আব্দুল কাদেরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে জিয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চালানোর উদ্দেশ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় মারাত্মক রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় বর্তমানে তারা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে জীবনের শেষ মুহূর্তের লড়াই চালাচ্ছেন (মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন)।
গিরগিটির মতো রঙ বদল ও ত্রাসের রাজত্ব:
বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দহাকুলা গ্রামের আজিমুদ্দিনের পুত্র জিয়া একজন চিহ্নিত শীর্ষ মাদক ও ইয়াবা কারবারি। সে, তার ভাই হাফিজুল এবং তার দুই পুত্র ফাহিম ও নাঈম দীর্ঘদিন ধরে গোটা এলাকায় অস্ত্রের মুখে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই জিয়া ছিল পুলিশের প্রকাশ্য দালাল। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সে গিরগিটির মতো রঙ পাল্টে রাতারাতি বিএনপির সমর্থক সেজে গেছে। শুধু তাই নয়, ‘জিয়া ফাউন্ডেশন’-এর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি সম্পদ ও ফাউন্ডেশনের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধভাবে ভোগবিলাস করছে। এমনকি সে প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি করে বেড়ায় যে, সে জিয়া ফাউন্ডেশন থেকে নিয়মিত ভাতা পায়!
চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ:
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, জিয়া ও তার সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ধুলিহর বাজার এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত মোটা অঙ্কের অবৈধ চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সুইপার সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক অপহরণ করে দীর্ঘদিন আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে এলাকার একাধিক নারীদের কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানি করার জ্বলন্ত প্রমাণও এখন এলাকাবাসীর হাতে।
প্রশাসনের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি:
 
 

মানববন্ধনে উপস্থিত হাজারো জনতা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের তীব্র দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এই দুর্ধর্ষ ও সমাজবিরোধী আসামীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ জনগণ নিজেদের নিরাপত্তা ও এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে রাজপথে নেমে আরও কঠোর ও রাজপথ অবরোধের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
উক্ত মানববন্ধনে ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইউনিয়নের শত শত সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন