তিন দশক পর ধামরাইয়ের ‘বেদে পল্লী’ পরিদর্শন করলেন ঢাকার ডিসি ফরিদা খানম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ঢাকার কোনো জেলা প্রশাসক (ডিসি) ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রূপনগর এলাকায় অবস্থিত বেদে পল্লী পরিদর্শন করেছেন।
ধামরাই উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও কল্যাণকর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম পল্লীটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন, তাঁদের দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনেন এবং জীবনযাত্রার মান খতিয়ে দেখেন।
পরিদর্শনকালে প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর মাঝে জরুরি ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৬৩টি পরিবারকে শুকনো খাবারের প্যাকেট, ১২ জন ব্যক্তিকে টিন ও ৭২ হাজার টাকার নগদ অর্থ (জনপ্রতি ৬,০০০ টাকা করে) দেওয়া হয়। এছাড়া ১১২ জন বাসিন্দার মাঝে ঐতিহ্যবাহী পোশাক (শাড়ি ও থ্রি-পিস) এবং ২০০ জন শিশুর মাঝে খেলনা বিতরণ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে বেদে সম্প্রদায় এই অঞ্চলে বসবাস করলেও আগে কোনো প্রশাসনিক প্রধান তাঁদের জীবনযাত্রার মান পরিদর্শনে যাননি। এই সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম উপজেলা পরিষদ থেকে ৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ২৫টি সেলাই মেশিন এবং সরকারি (খাস) জমি বরাদ্দের ঘোষণা দেন।
ডিসি ফরিদা খানম বলেন, কোনো প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন মৌলিক সরকারি সেবা এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশের সুযোগ প্রসারে সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
পরিদর্শনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ধামরাই উপজেলায় বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শিক্ষা সহায়তামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি ৫২টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন এবং জিপিএ-৫ পাওয়া ১৮৬ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা জানান। এছাড়া ৪২ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুলের পোশাক, ব্যাগ ও জুতো বিতরণ করা হয়।
সরঞ্জাম ও আর্থিক সহায়তা বিতরণের আওতায় স্থানীয় উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মাঝে ঋণ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া ক্লাবের মাঝে খেলাধুলার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুলে শিক্ষার উপকরণ এবং ৩টি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) স্কুলে হুইলচেয়ার ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
নাগরিক সেবা ও জনকল্যাণমূলক সহায়তার অংশ হিসেবে 'হ্যালো ডিসি' মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আবেদনকারী ১৫ জন অসহায় ব্যক্তির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাঝে দায়িত্ব পালনের পোশাক ও সরঞ্জাম বিতরণ করা হয় এবং আবদুস সোবহান মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৭০০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

