ডার্ক মোড
Friday, 10 July 2026
ePaper   
Logo
ঢাবিতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন:  পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কার্যকর অবদান রাখতে পারেন: ড. জুবাইদা রহমান

ঢাবিতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন: পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কার্যকর অবদান রাখতে পারেন: ড. জুবাইদা রহমান

 

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং 'ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা' শীর্ষক একটি বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও প্রখ্যাত হৃদরোগ विशेषज्ञ ড. জুবাইদা রহমান বুধবার কার্জন হল প্রাঙ্গণে একটি নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে এই মাসব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

পরবর্তীতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ এম ইউসুফ হায়দার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেসানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, অনুষদের ডিন, প্রক্টর, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালকবৃন্দ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জুবাইদা রহমান বলেন, "পরিবেশ রক্ষা এবং দেশের বিভিন্ন সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান খুঁজে বের করতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত কার্যকর অবদান রাখতে পারেন।" ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্তমান পৃথিবীকে আরও সুন্দর, সবুজ ও বাসযোগ্য করে তুলতে তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বৃক্ষরোপণকে কেবল প্রথাগত কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের অংশগ্রহণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের একটি ‘সবুজ বিপ্লবে’ রূপান্তর করতে হবে। এই লক্ষ্যে তিনি গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম (সবুজ স্বেচ্ছাসেবক), ক্লাইমেট ইয়ূথ ফেলোশিপ এবং এনভায়রনমেন্টাল স্টার্টআপ ফান্ড গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সবোক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ এম ইউসুফ হায়দার বলেন, "আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যখন জলবায়ু পরিবর্তন মানব সভ্যতার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, নদীভাঙন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি আজ বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

সভাপতির বক্তব্যে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন একটি জাতীয় দায়িত্ব। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই দায়িত্বের দর্শন প্রথম প্রকাশ পেয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে। ১৯৭৮ সালে, যখন 'জলবায়ু পরিবর্তন' শব্দটি বৈশ্বিক আলোচনায় আসেনি, তখনই জিয়াউর রহমান বৃক্ষরোপণকে একটি জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন