ডার্ক মোড
Friday, 03 July 2026
ePaper   
Logo
কুড়িগ্রামে বিপদসীমার ওপরে দুধকুমার, পানিবন্দী ৩ হাজার মানুষ

কুড়িগ্রামে বিপদসীমার ওপরে দুধকুমার, পানিবন্দী ৩ হাজার মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় দুধকুমার নদের পানি উপচে পড়ে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। গত তিন দিন ধরে টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঢলের পানিতে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ পথ তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার বাসিন্দা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত সোমবার বিকেল ৩টায় পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৮৪ মিটার। এই পয়েন্টে নদের বিপদসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার, অর্থাৎ নদটি বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পাউবোর কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা এই অঞ্চলে একটি স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

পানির তীব্র বৃদ্ধিতে স্থানীয় কৃষি খাত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন চরের বিস্তীর্ণ মৌসুমী শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দুধকুমার অববাহিকায় তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলাই ও দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামের চার শতাধিক বাড়িঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। একইভাবে পাইকেরছড়া, সোনাহাট, চর ভূরুঙ্গামারী এবং আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের বেশ কিছু চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বাসিন্দারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

নদীতীরবর্তী বাসিন্দা হাশেম আলী ও আব্দুল জলিল জানান, ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় তাঁরা গৃহপালিত গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সেই সঙ্গে নদীভাঙনের তীব্র আতঙ্ক তো রয়েছেই। পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল রাজ্জাক নিশ্চিত করেছেন যে পাইকডাঙ্গা ও চিত পাইকেরছড়া গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে, তিলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জানান, তাঁর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের চার শতাধিক পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে আছে, তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা কোনো জরুরি ত্রাণ সহায়তা পায়নি।

অবশ্য স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা যেমন—শিলখুড়ি, তিলাই, পাইকেরছড়া, চর ভূরুঙ্গামারী, আন্ধারীঝাড়, বলদিয়া, বঙ্গ সোনাহাট এবং ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নে জরুরি বিতরণের জন্য ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ আশ্বস্ত করেছেন যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি তদারকির জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন