ডার্ক মোড
Friday, 10 July 2026
ePaper   
Logo
ডুয়েটে নতুন ভিসি নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে ৩ পক্ষের সংবাদ সম্মেলন

ডুয়েটে নতুন ভিসি নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে ৩ পক্ষের সংবাদ সম্মেলন

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-ডুয়েটে নতুন উপাচার্যের যোগদানকে কেন্দ্র করে পঞ্চম দিনের মত আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

এর মধ্যেই সোমবার ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আন্দোলনকারী একদল শিক্ষার্থী, ছাত্রদল ও শিক্ষকদের একটি অংশ সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

এদিন সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পূর্বঘোষিত ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থী। সকাল থেকে তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা ক্যাম্পাসের ফটকসহ অন্যান্য গেইট বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ করেন।

 

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ বলেন, “যে ভিসি আমাদের ভাইদের রক্ত ঝরিয়েছে, আমরা তাকে চাই না। অনতিবিলম্বে তার নিয়োগ বাতিল করতে হবে।”

একই সঙ্গে রোববার আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের ওপর সংঘটিত হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার করারও দাবি জানান তিনি।

 

একই বিভাগের ছাত্র হাসানুর রহমান বলেন, “আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলনকে কেউ কেউ রাজনৈতিক ‘কালার’ দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রকৃতপক্ষে এটা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়।”

তিনি বলেন, “রোববার ছাত্রদল ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীদের হামলায় ডুয়েটের ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তারা ক্যাম্পাসে ফিরেছে।”

ক্যাপশন- ডুয়েটের ফটকের বাইরে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল।

দাবি আদায় না হলে ‘শাটডউন’ কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় এই সংবাদ সম্মেলন থেকে।

এরপর দুপুর দেড়টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ের হল রুমে সংবাদ সম্মেলন করেন ডুয়েট শিক্ষকদের একটি অংশ। সেখানে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. খসরু মিয়া রোববার সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের সহমত আছে। ৫ মে শিক্ষক সমিতির জরুরি এক সভায় আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, ডুয়েটের যে কোনো শিক্ষককে যেন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি আবেদনও আমরা মন্ত্রণালয় ও সচিবের কাছে পাঠিয়েছি।”

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক খসরু বলেন, “কোনো শিক্ষক কখনও ছাত্র-ছাত্রীকে এমন ইন্ধন বা উসকানি দিতে পারেন না।”

এরপর বিকালে ডুয়েটের ফটকের বাইরে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল। সেখানে ডুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির উপস্থিত ছিলেন।

তারা দাবি করেন, আগের উপাচার্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনের সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই ‘শিবির ও ছাত্রশক্তির’ নেতাকর্মীরা এ আন্দোলন করছেন।

ডুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল অভিযোগ করেন, “সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে ‘শিবির ও ছাত্রশক্তি’ এ আন্দোলন করছে। সাবেক ভিসির অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ ধামাচাপা দিতেই ক্যাম্পাসে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।”

তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডুয়েট শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আহাদ।

তিনি বলেন, “এটা রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের আন্দোলন নয়। একটি যৌক্তিক আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাই আজ সেই বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরিষ্কার করেছেন।”

বৃহস্পতিবার অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর বিরোধিতা করে সেদিন রাত থেকেই আন্দোলনে নামেন একদল শিক্ষার্থী। তারা দাবি তুলেন, ডুয়েটের উপাচার্য ডুয়েট থেকেই দিতে হবে।

আন্দোলনের মধ্যে যোগদান করতে গিয়ে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তার যোগদানকে কেন্দ্র করে এদিন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

উপাচার্যের কার্যালয়ের হল রুমে সংবাদ সম্মেলন করেন ডুয়েট শিক্ষকদের একটি অংশ।

পরে উপাচার্য পুলিশ পাহারায় পাশের উপজেলা পরিষদে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে বসেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে শিক্ষকদের সঙ্গে অনলাইনে সভা করেন।

উপাচার্যের নিয়োগের ব্যাপারে ডুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহা. আবু তৈয়ব বলেন, “আগের উপাচার্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন নিয়মানুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর কাগজে স্বাক্ষর করেন। পরে সেই কাগজ নতুন উপাচার্যের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি স্বাক্ষর করে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিদায়ী উপাচার্যের সঙ্গে নবাগত উপাচার্যের দেখা হয়নি।”

তবে সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল আর ক্যাম্পাসে যাননি। তবে তিনি গাজীপুরে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “আমি একটা মিটিংয়ে আছি। পরে কথা হবে।”

এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, “যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন