পটিয়ায় ৮ বছরের শিশুকে উপর্যুপরি যৌন নির্যাতন: মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় গত এক বছর ধরে আট বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ধারাবাহিক নির্যাতনে সহযোগিতা করার অভিযোগে ওই একই প্রতিষ্ঠানের আরও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টির পর শনিবার পুলিশ মূল অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সী মাদ্রাসা শিক্ষক আজিজ উল্লাহকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধলঘাট ইউনিয়নের ইশ্বরখাইন চৌধুরীপাড়া এলাকার ‘আজিজিয়া নাজিরিয়া তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসা’র দ্বিতীয় শ্রেণীর ওই ছাত্রটি বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। প্রাথমিকভাবে তার পরিবার একে পাইলস বা অর্শজনিত সমস্যা মনে করে তাকে একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। তবে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসক স্পষ্ট জানান যে এটি পাইলস নয়, বরং শিশুটি অনৈতিক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে তিনি তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে জিজ্ঞেস করা হলে শিশুটি জানায় যে, গত এক বছর ধরে শিক্ষক আজিজ উল্লাহ তাকে বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক নির্যাতন করে আসছেন এবং মাদ্রাসার অন্য তিন ছাত্র এই অপরাধ সংঘটনে ওই শিক্ষককে সরাসরি সহায়তা করত।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে প্রথমে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলে শিক্ষকরা ঘটনাটি সম্পূর্ণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আইনি পদক্ষেপ বা পুলিশি মামলা হলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম চিরতরে নষ্ট হবে এবং মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন অজুহাত দেখিয়ে তাঁরা ভুক্তভোগীর বাবা-মাকে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য অনুরোধ ও চাপ প্রয়োগ করেন।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ঘটনার কথা জানতে পেরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আজিজ উল্লাহকে গ্রেফতার করে এবং ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করে। এ ছাড়া অভিযুক্ত অন্য তিন ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

