সিট্রাক-ট্রলার চললেও ফেরি বন্ধ, বিআইডব্লিউটিসির সিদ্ধান্তে যাত্রীদের ক্ষোভ
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
তিন নম্বর সতর্কসংকেতের মধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নলচিরা–চেয়ারম্যানঘাট নৌরুটে সিট্রাক, স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল করলেও ফেরি মহানন্দা বন্ধ রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের অভিযোগ, একই নৌপথে অন্যান্য নৌযান চলাচলের সুযোগ থাকলেও শুধু ফেরি বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে নলচিরা ও চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময় তিন নম্বর সতর্কসংকেত জারি থাকলেও নদীর পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এ সময় ছোট নৌযান চলাচল করতে দেখা গেলেও ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।
ফেরিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নদীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ফেরির মাস্টার ও মেরিন কর্মকর্তা মহানন্দা চালুর সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী যাত্রী ও যানবাহন ওঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং টিকিটও বিক্রি করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়।
ফেরির ইজারা প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম তুরাগ বলেন, ফেরি ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পর ১৪৫টি যাত্রী টিকিট বিক্রি হয়েছিল। কর্মীদেরও ঘাটে ডেকে আনা হয়। কিন্তু পরে কর্মকর্তাদের নির্দেশে ফেরি বন্ধ রাখতে হয়। তাঁর দাবি, একই সময়ে অন্যান্য নৌযান চলাচল করায় শুধু ফেরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গাড়িচালক মাইদুল বলেন, গ্যাসবোঝাই গাড়ি নিয়ে রাতে হাতিয়া যাওয়ার জন্য চেয়ারম্যানঘাটে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ফেরির টিকিট কেটে গাড়ি পন্টুনে তোলার পর জানতে পারেন ফেরি চলবে না। পরে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় গাড়ি নামাতেও সমস্যায় পড়েন।
যাত্রী আবদুল আহাদ বলেন, “একই নদীতে ছোট নৌযান চলবে, অথচ ফেরি বন্ধ থাকবে—এটা সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য নয়। আবহাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হলে সব নৌযানের ক্ষেত্রেই একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা উচিত।”
এদিকে ফেরি পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার মো. ফয়সাল বলেন, আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ফেরি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিম বলেন, ফেরি চলাচল বন্ধ বা চালুর সিদ্ধান্ত তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ঘাট থেকে তাঁকে জানানো হয়েছিল, ফেরি বন্ধ থাকলেও অন্যান্য নৌযান চলাচল করছে। এরপর তিনি মেরিন কর্মকর্তাকে নিরাপত্তার স্বার্থে অন্যান্য নৌযানও বন্ধ রাখার কথা বলেন। কোনো ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
স্থানীয় যাত্রীদের বক্তব্য, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সতর্কতা থাকলে যাত্রীদের নিরাপত্তাই প্রথম বিবেচ্য হওয়া উচিত। তবে একই সময়ে একাধিক নৌযান চলাচল এবং একটি ফেরি বন্ধ থাকার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্টভাবে জানানো হলে যাত্রীদের বিভ্রান্তি ও ভোগান্তি দুটোই কমবে।

