লক্ষ্মীপুরে জমি বিরোধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও নারীকে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বটতলী বরকান্দাজ বাড়িতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িঘর ভাঙচুর ও সেলিনা আক্তার নামে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি। পরে আহত সেলিনা আক্তারকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবারের মাকছুদ আলমের অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি থেকে মাকছুদ আলমকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়। এ সময় লিপির নেতৃত্বে নুরুল আমিনের ছেলে মামুন এবং জহির উদ্দিনের ছেলে আরিফ, রাফি, বাবু ও জহির বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাঁরা বাড়িঘর, গোয়ালঘর, খড়ের পালা ও বেড়া ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় মাকছুদ আলমের স্ত্রী সেলিনা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তাঁর ঘাড়ে আঘাত লাগে এবং হাতের আঙুলের গিঁটে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
সেলিনা আক্তারের অভিযোগ, রুহুল আমিন তাঁর ছয় শতক জমি সেজো ভাই আবদুর রহমানের স্ত্রী লিপির কাছে বিক্রি করেন। বিষয়টি জানার পর ছোট ভাই মাকছুদ আলম এ নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন। জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত লিপি হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিক ওয়ারিশি জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের সুত্রপাত: ওয়ারিশদের জমি থেকে নারকেল পাড়েন মাকছুদ । এ নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। তবে তাঁর কেনা ছয় শতক জমি নিয়ে মারামারি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, মাকছুদের মোট জমি ২৮ শতক। এর মধ্যে ১৪ শতক বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং সরেজমিনে অবশিষ্ট ১৪ শতক জমি পাওয়া গেছে। তাঁরা জমি মাপঝোক করে দিয়েছেন। এ সময় রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মাকছুদের বাড়িতে আরিফ ও সাইফুলের হামলার ঘটনা তাঁরা আশা করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও কারও বাড়িঘর ভাঙচুর বা নারীকে মারধর করার অধিকার নেই। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন
আপনি ও পছন্দ করতে পারেন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
আর্কাইভ!
অনুগ্রহ করে একটি তারিখ নির্বাচন করুন!
দাখিল করুন

