বাংলাদেশে মাদক পাচারের উচ্চ ঝুঁকি: সম্মিলিত প্রতিরোধের আহ্বান মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে মাদক অনুপ্রবেশের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘অ্যান্টি-ড্রাগ সোসাইটি’ আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে তিনি মাদক নামক এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সরকার, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ব্যাখ্যা করে বলেন যে, বাংলাদেশ ভৌগোলিক দিক থেকে এশিয়ার তিনটি প্রধান মাদক উৎপাদন ও পাচার অঞ্চলের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। এই অঞ্চলগুলো হলো—মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ড নিয়ে গঠিত ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ে গঠিত ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’ এবং ‘গোল্ডেন ওয়েজ’। ভৌগোলিক এই সংবেদনশীল অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো বাংলাদেশকে একটি কৌশলগত ট্রানজিট রুট বা পাচারের পথ হিসেবে ক্রমবর্ধমান হারে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মাদক চোরাচালানের আন্তর্জাতিক রুটে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা রুখতে এখনই সর্বাত্মক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ প্রয়োজন।
সমাবেশে উপস্থিত অন্য বক্তারা দেশে অবৈধ মাদকের ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং চোরাচালানের পথগুলো চিরতরে বন্ধ করতে জাতীয় সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর তাগিদ দেন। তাঁরা মাদক পাচারকারী এবং এই আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের স্থানীয় পরিচালকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এর পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদকের ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে দেশব্যাপী কার্যকর সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো এবং সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের বেশি বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেন বক্তারা।
অ্যান্টি-ড্রাগ সোসাইটির সভাপতি মো. আল হাদীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন দ্য নিউ নেশনের উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ মোশাররফ আলী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, শিক্ষক নেতা অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম এবং জাতীয় মানবাধিকার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এ এস এম মোস্তফা কামাল। এ ছাড়া এস এম তাজুল ইসলাম, প্রদীপ কুমার পাল, তোফাজ্জল হোসেন ফুয়াদ, এম এইচ প্রিন্স, কাজী আবির আসলাম, আয়াতুল্লাহ আক্তার এবং মতিউর রহমানসহ অন্যান্য সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ সভায় তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

