ডার্ক মোড
Sunday, 30 August 2026
ePaper   
Logo
বরিশাল সদর উপজেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে এবার ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে নৌকা মার্কার প্রচারকরা

বরিশাল সদর উপজেলা কমিটি বাতিলের দাবিতে এবার ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে নৌকা মার্কার প্রচারকরা

মাসুদ রানা, বরিশাল অফিস
বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত নতুন কমিটির বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এবার রাজধানীর ঢাকায় গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নৌকা মার্কার প্রচারক একদল আওয়ামী দোসর। ফ্যাসিস্ট সরকারের গত ১৭ বছরে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তারা এখন নিজেদের ‘ত্যাগী নেতা’ হিসেবে মূল্যায়নের দাবিতে অভিনব কৌশলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

গত শনিবার বিকেল চারটার দিকে দেশনায়ক তারেক রহমানের চলাচলের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে অপতৎপরতা শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তা নস্যাৎ হয়ে যায়। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের গুলশান কার্যালয়ের নীতিনির্ধারকরা।

নৌকা মার্কার প্রচারক থেকে 'ত্যাগী' বিএনপি সাজার ভণ্ডামি:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুলশানে অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অতীত চরম বিতর্কিত ও দলদ্রোহী কর্মকাণ্ডে ভরা:
মোঃ আব্দুছ ছালাম রাড়ী: সাবেক চরমোনাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সরকারি সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে মিছিল-মিটিং করেন। “সালাম রাড়ীর সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন”—এই স্লোগান দিয়ে মাঠ কাঁপানো আব্দুস সালাম রাড়ী এখন হঠাৎ বিএনপি-প্রেমী সেজে বহিস্কার এড়াতে ও পদ বাগাতে মরিয়া।
রেজা রাড়ী: সাবেক এই ছাত্রনেতা চরমোনাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট চেয়ে মাঠে নেমেছিলেন। বিগত সরকারের সম্পূর্ণ মেয়াদে গা ঢাকা দিয়ে রেখে এখন নিজেকে বড় মাপের দলপ্রেমী প্রমাণের চেষ্টা করছেন।
ছদ্মবেশী ছাত্রনেতা: কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকা আরও এক ব্যক্তি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা পরিচয় দিয়ে পদ বাগাতে চান, অথচ বিগত ১৭ বছরের তীব্র রাজপথের সংগ্রামে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। তিনি গার্মেন্টসে বাইং হাউজে চাকরি করেছেন।
তৃণমূলের দাবি ও সাংগঠনিক চাপ
ফ্যাসিস্ট আমলে দলীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যারা নৌকার স্লোগান দিয়েছিল এবং দলের নীতি-আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তারা কীভাবে আজ বিএনপির নীতি-নির্ধারক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়—এ নিয়ে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই এই সুবিধাবাদীদের ঢাকায় পাঠোনো হয়েছিল। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে:
চিহ্নিত দলীয় চরম বিশ্বাসঘাতক আব্দুস সালাম রাড়ী ও রেজা রাড়ীকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা জরুরি।
সদর উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও যুগ্ম-আহ্বায়কদের ওপর তৃণমূলের চাপ বাড়ছে এই সুযোগ সন্ধানীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।
তবে বর্তমান কমিটির নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কোনো ভণ্ডকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং এদেরকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবেই চূড়ান্তভাবে মোকাবিলা করা হবে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন