বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে মানবাধিকার কর্মী ও বৃত্তবানদের প্রতি বিসিআরএস-এর আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মানবাধিকার কর্মী, বিত্তবান ব্যক্তি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি দেশব্যাপী উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস সোসাইটি (বিসিআরএস)।
গত শনিবার (১১ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে বিসিআরএস-এর চেয়ারম্যান জাকির হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, এই চরম মানবিক সংকটে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সম্মিলিত সামাজিক ও নাগরিক প্রয়াস অত্যন্ত জরুরি। তাঁরা বন্যাদুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং শিশুখাদ্যসহ জরুরি সামগ্রী বিতরণে সব সাংগঠনিক কমিটিকে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করার অনুরোধ জানান।
টানা কয়েকদিনের মৌসুমী ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট এই আকস্মিক বন্যায় দেশের ৫টি জেলার আনুমানিক ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার কারণে বেশ কয়েকটি উপজেলার অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলা ব্যাপক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, হবিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষি ও স্থানীয় মানুষের জীবিকার ওপর এই বন্যার প্রভাব মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। কেবল চট্টগ্রাম জেলাতেই আনুমানিক ৯ হাজার ৯৩৩টি বাণিজ্যিক পুকুর, হ্যাচারি এবং উন্মুক্ত জলাশয় প্লাবিত হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৯১ কোটি টাকা মূল্যের মৎস্য সম্পদ ভেসে গেছে। একই সাথে গবাদিপশু ও প্রাণিসম্পদ খাতে অবকাঠামো ও খামারের ক্ষয়ক্ষতি প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা।
বিসিআরএস নেতৃত্ব উল্লেখ করেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়া এবং উজান থেকে পানির ঢল কমে আসায় অঞ্চলের নদীগুলোর পানি অবশেষে হ্রাস পেতে শুরু করেছে, যা পানিবন্দী পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। তবে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, চিকিৎসা সেবা পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি প্রয়োজন বলে তাঁরা বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

