ডার্ক মোড
Wednesday, 26 February 2025
ePaper   
Logo
ফটিকছড়িতে মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা পরিচয়ে ভাতা আত্মসাৎ

ফটিকছড়িতে মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা পরিচয়ে ভাতা আত্মসাৎ

এম এস আকাশ, ফটিকছড়ি

বসু মিয়া ও আবদুর রাজ্জাক দুই ভাই। তারা মুক্তিযোদ্ধা। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাগান বাজার ইউনিয়নের চিকনছড়া গ্রামে তাদের বসতি। বসু মিয়া নি:সন্তান। তিনি ইন্তেকাল করেছেন প্রায় পঁচিশ বছর আগে। তার ইন্তেকালের বছর খানেক পর তার স্ত্রীও ইন্তেকাল করেন। কিন্তু সেই বসু মিয়ার পুত্র পরিচয়ে বিগত দশ বছর যাবৎ ভাতা আত্মসাদ করে আসছে আবদুর রাজ্জাকের তৃতীয় পুত্র আবদুস শুক্কুর। সে ওই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশেরও চাকরী করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাগান বাজার ইউনিয়নের চিকনছড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের তিন ছেলে তিন কন্যা। তার মধ্যে তৃতীয়পুত্র আবদুস শুক্কুর ২০০৮ সালে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরী করেন। ২০১৪ সালে তার চাচা নি:সন্তান বসু মিয়াকে পিতা সাজিয়ে তৈরি করেন আরো একটি জাতীয় পরিচয়পত্র। এই জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বসু মিয়ার ওয়ারিশ সেজে বিগত দশ বৎসর যাবৎ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করে আসছে সে।

দু'টি জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির অনুসন্ধ্যানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দু'টি জাতীয় পরিচয়পত্র পুঁজি করে ইউনিয়ন পরিষদের জ্বাল ওয়ারিশ সনদ নিয়ে আব্দুর শুক্কুর বনে যান নি:সন্তান মুক্তিযোদ্ধা মৃত বসু মিয়ার একমাত্র সন্তান। যার বদৌলতে আবদুস শুক্কুর ২০১৫ সাল থেকে উত্তোলন করে আসছেন বসু মিয়ার ওয়ারিশ ভাতার অর্থ। যার ভাগ চলে যায় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বখতিয়ার উদ্দিন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে সহায়তাকারি শহিদুল ইসলাম ভুইয়া, ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইলিয়াসের কাছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, পল্লী চিকিৎসক শহিদুলের বড় ভাই নির্বাচন কমিশনের সহকারী সচিব নুরুল ইসলাম ভূইয়া। তাই তিনি ভাইয়ের পরিচয় সুবাধে অবাধে নির্বাচন অফিসে যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে সহায়তার নামে ধান্ধা করেন।

বাগান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ আব্দুস শুক্কুর অভিযোগ স্বীকার করে জানান, 'আগে আমার জাতীয় পরিচয়পত্র একটি ছিল। পরে আমার চাচাকে বাবা পরিচয়ে আরেকটি তৈরী করি। এজন্য শহীদুল ইসলামের সাথে পঞ্চাশ হাজার টাকা চুক্তি হয়। পরে শহীদুল ইসলামকে দুই হাজার, সচিব বখতেয়ার কে পাঁচ হাজার এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইলিয়াসকে দুই হাজার টাকা করে প্রতি মাসের ভাতা থেকে প্রদান করি।

দ্বৈত জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরীর হোতা শহীদুল ইসলাম ভূইয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,'আমাদের সাথে শুক্কুরের জায়গা সম্পত্তির বিরোধ রয়েছে। তাই সে মিথ্যা কথা বলছে এবং আমার নামে অপপ্রচার করছে।

এদিকে দূর্ত ইউপি সচিব বখতেয়ার সম্প্রতি গ্রাম পুলিশ আব্দুর শুক্কুরকে বাঁচাতে পরিষদের প্রশাসকের স্বাক্ষারবিহীন নতুন আরেকটি প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করেন। যেখানে তার নিজের, ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও মহিলা ইউপি সদস্যা শাহেনা বেগমের স্বাক্ষর রয়েছে। এই প্রত্যয়নপত্র বিধি সম্মত হয়নি বলে জানান ইউএনও এবং বাগান বাজার প্রশাসক মো. মোজাম্মল হক চৌধুরী।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সচিব বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরীর কোন কাজের সাথে আমি জড়িত নই। সম্প্রতি বিধি ভঙ্গ করে কেন প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে তার কোন জবাব দিতে পারেনি সে।

দ্বৈত জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অরুণ উদয় ত্রিপুরা বলেন, 'ইতোমধ্যে তার দুইটি জাতীয় পরিচয়পত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে এ ব্যাপারে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে এবং উধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাগান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দুইটি জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরী, মুক্তিযোদ্ধার ওয়ারিশ ভাতা উত্তোলন এবং বিধিবিহীন প্রত্যয়নপত্র প্রদানের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষযটি তদন্ত করছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন