দোহারে ইলিশ নিধন চলছে, সক্রিয় ৮-১০ সিন্ডিকেট
মাহবুবুর রহমান টিপু, দোহার(ঢাকা):
প্রশাসনের অভিযান ও ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই দোহারের পদ্মা নদীতে চলছে ইলিশ শিকার। নদীর তীরবর্তী অন্তত ১২টি বাজারে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ সময়ে ধরা ইলিশ। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একটু কম দামে মাছ পাওয়ায় এসব বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনাও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ শিকার ও বিক্রির পেছনে সক্রিয় রয়েছে একাধিক সিন্ডিকেট। তাদের প্রভাবের কারণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
নদী তীরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,বাঘড়া, নন্দলালপুর চর এলাকা, দোহার উপজেলার মুকসুদপুর, নারিশা বাজার, মেঘুলা ঘাট, সুতারপাড়া- মধুরচর, মাহমুদপুর,বিলাশপুর নদীপাড় ও বিভিন্ন বাজারে ছোট এবং মাঝারি আকারের ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বড় আকারের ইলিশ তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে বেশি দামে বিক্রির আশায় বড় মাছের একটি অংশ মজুত করা হচ্ছে বলেও তাঁদের ধারণা।
স্থানীয়রা আরও বলেন, বাজারে প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। একই চিত্র
দোহারের সিমান্তবর্তী এলাকা বাঘড়া, নন্দলালপুর চর এলাকা, দোহার উপজেলার মুকসুদপুর, নারিশা বাজার, মেঘুলা ঘাট, সুতারপাড়া- মধুরচর, মাহমুদপুর,বিলাশপুর, মৈনটঘাটসহ নদীপাড় ও বিভিন্ন বাজারে।
মধুরচর বাসিন্দা আনিস মিয়া ও রহমান বেপারী জানান, নদী পাড়ে জেলেদের নৌকা থেকে প্রকাশ্যেই ইলিশ বিক্রি হতে দেখেছেন তিনি। তাঁর দেখা বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ২ হাজার টাকা। ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১ হাজার পাচঁশত টাকায়। এর চেয়ে ছোট ইলিশের দাম ছিল কেজি ৯০০ টাকা। তাঁর ভাষ্য, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এসব মাছের দাম কম রয়েছে। স্থানীয় বাজার থেকে মাছ কিনে খুচরা বিক্রেতারা দূরের বাজারে কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা লাভে বিক্রি করছেন। এর সাথে সরাসরি জড়িত আড়ৎদার ও বরফকলের মালিকরা।
স্থানীয় প্রশাসন ও কুতুবপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ীর পরিদর্শক কে এম নজরুল ইসলাম জানান, ইলিশ শিকার ও কেনাবেচার সঙ্গে কিছু স্থানীয় সিন্ডিকেট জড়িত। বিস্তীর্ণ নদী এলাকায় সীমিত জনবল নিয়ে সার্বক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করাও খুবই কঠিন। সরকারি ইঞ্জিনচালিত নৌকা দেখলেই জেলেরা ছোট খালে ঢুকে পড়েন, ফলে তাঁদের আটক করা কঠিন হয়ে যায়।
এ বিষয়ে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, উপজেলা প্রশাসন সিন্ডিকেটের মধ্যমনিদের লিষ্ট তৈরী করে দিলেই আমরা অভিযান পরিচালনা করতে পারি।
দোহার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা মুন্নী বলেন, লোকবল মাত্র তিন জন। নৌ-পুলিশই একমাত্র ভরসা।
সিন্ডিকেটের মধ্যমনিদের নাম জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এপর্যন্ত অভিযানে প্রায় দুই লাখ মিটারের মতো জাল জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত জাল নদীপারে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২০ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে বলে জানান।
দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট নওশীনা আরিফ বলেন, নদীতে অবৈধ মাছ শিকার ও সিন্ডিকেটের তৎপরতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বাজারগুলোতে খুব ভোরে ফজরের আজানের সময় এবং রাতে মাছ বিক্রি হয় বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। এছাড়াও রাতের অন্ধকারে উত্তাল নদীতে অভিযান চালানো কঠিন। এরপরও অভিযান চলছে। উদ্ধার করা কিছু ইলিশ এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে।
দোহার,ঢাকা।
মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন
আপনি ও পছন্দ করতে পারেন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
আর্কাইভ!
অনুগ্রহ করে একটি তারিখ নির্বাচন করুন!
দাখিল করুন

