তুলে নিয়ে মারধর, পরে পিস্তল দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো পুলিশের জালে যুবক
মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারে প্রথমে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পরবর্তীতে বাসায় রিভলবার রেখে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই যুবককে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।
বুধবার দিবাগত রাতে সদর মডেল থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। এর আগে এ ঘটনায় অস্ত্র আইন ও অপহরণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ শহরের বড়কাঁপন আবাসিক এলাকায় শফিকুল ইসলাম লিটন নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশকে তথ্য প্রদানকারীর সহযোগী পরিচয়ে একই গ্রামের তুহিন আহমদ (৪৭), ফাহিম আহমদ (২২) ও বাবুল মিয়া (২৬) পুলিশের সঙ্গে ওই বাসায় যান। বাসা তল্লাশির সময় তাঁদের অতি উৎসাহী ভূমিকা এবং পরবর্তীতে ওই বাসায় থাকা অস্ত্র বের করে দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের সন্দেহ হলে অস্ত্র উপস্থাপনকারী তুহিন আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অপর দুজন পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে পুলিশ বাসার ভাড়াটিয়া শফিকুল ইসলাম লিটনকে আহত অবস্থায় দেখতে পায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গত ৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পূর্ববিরোধের জেরে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ আহমদ এর (মাসুদ কমিশনার) নেতৃত্বে তুহিন, ফাহিম, বাবুলসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন ব্যক্তি মাদক সেবনের অজুহাতে তাঁকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে মাসুদ আহমদের বাসার একটি অন্ধকার কক্ষে তাঁকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হাতে একটি রিভলবার দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে মাসুদ আহমদের নির্দেশে তুহিনের নেতৃত্বে কয়েকজন আহত লিটনকে রাত ২টার দিকে তাঁর বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে এবং তাঁকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে চারটি গুলিসহ একটি রিভলবার বাসার সোফার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে তাঁরাই পুলিশকে খবর দেয় সেখানে অস্ত্র আছে এমন তথ্য ।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার জানান, পুলিশের হাতে আটক তুহিন আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অস্ত্র আইন এবং অপহরণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নম্বর ৫(১১)২০২৬ ও ৬(১১)২০২৬।
তিনি বলেন, আটক আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন
আপনি ও পছন্দ করতে পারেন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
আর্কাইভ!
অনুগ্রহ করে একটি তারিখ নির্বাচন করুন!
দাখিল করুন

