ক্ষেতলালে ৩৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২২টিতে নেই এ প্লাস, একটিতে পাসের হার শূন্য
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় চলতি বছরের মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। উপজেলার ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২টি প্রতিষ্ঠান থেকেই কোনো শিক্ষার্থী এ প্লাস (জিপিএ-৫) অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হারও শূন্য।
ক্ষেতলাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৮টি, মাদ্রাসা পর্যায়ের ১৪টি এবং কারিগরি পর্যায়ের ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ১৮টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানে এ প্লাস পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। মাদ্রাসা পর্যায়ের ১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠানের ২ জন শিক্ষার্থী এ প্লাস পেয়েছে। অন্যদিকে ৫টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠানে এ প্লাস পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষেতলাল সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজেও এবারের ফলাফলে প্রত্যাশিত সাফল্য দেখা যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৭৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২২ জন অকৃতকার্য হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এ প্লাস পেয়েছে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী।
এদিকে উপজেলার ভালো ফলাফলের জন্য পরিচিত কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও কোনো শিক্ষার্থী এ প্লাস পায়নি। কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালয়, ইটাখোলা উচ্চ বিদ্যালয় ও জিয়াপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী এবার এ প্লাস অর্জন করতে পারেনি।
মাদ্রাসা পর্যায়েও ফলাফল সন্তোষজনক নয়। ক্ষেতলাল খোশবদন গোলজারে উলুম আলিম মাদ্রাসা থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী এ প্লাস পায়নি। এছাড়া কাপাসট্টিকরি দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্যে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ প্লাস না পাওয়া এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান, নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সমন্বয়, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
সার্বিকভাবে এবারের ফলাফলে ক্ষেতলাল উপজেলার মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। বিশেষ করে ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২টিতে কোনো এ প্লাস না থাকা এবং একটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাবেদ ইকবাল হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি একটু ব্যস্ত আছি। আগামীকাল এ বিষয়ে মন্তব্য দেব।

