ডার্ক মোড
Monday, 12 October 2026
ePaper   
Logo
কালীগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত ঝাড়ুদারের নামে ভুয়া বিলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে      

কালীগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত ঝাড়ুদারের নামে ভুয়া বিলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে    

কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবসরপ্রাপ্ত এক ঝাড়ুদারের নামে সেফটিক ট্যাংক পরিষ্কারের বিল করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৩০ হাজার টাকার সরকারি বরাদ্দের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,২০২৫-'২৬ অর্থ বছরে   হাসপাতালের ‘স্বাস্থ্যবিধান ও পানি সরবরাহ’ খাতের বরাদ্দ থেকে সেফটিক ট্যাংক পরিষ্কারের জন্য ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। ২০২৬ সালের ২৪ জুনের বিল নম্বর ৮৭-এ হাসপাতালের মহিলা বিভাগের টয়লেট, পুরুষ বিভাগের টয়লেট ও বহির্বিভাগের টয়লেট হাউস পরিষ্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিলটি করা হয়েছে হাসপাতালের প্রায় দশ বছর আগে অবসরে যাওয়া  ঝাড়ুদার সন্তোষ কুমার দাসের নামে। তবে সন্তোষ কুমার দাসের দাবি, তিনি প্রায় ১০ বছর আগে চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তিনি কোনো কাজ করেন না। সংশ্লিষ্ট বিলের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রে স্বাক্ষরও করেননি। অবসরের পর নিজ বাড়ি পৌর এলাকার ঢাকালে পাড়ায় অবস্থান করেন। এরপর থেকে  তিনি কখনো হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেননি বলেও জানান। হাসপাতালটিতে কর্মরত  হিসাবরক্ষক আব্দুল আজিজের নিকট এই বিল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিল কে প্রস্তুত করেছে আমি এটা জানি না। এ সম্পর্কে স্যারই ভালো বলতে পারবেন। আমানুল্লাহ স্যার আসার পর থেকে হিসাব সংরক্ষণের কোনো কাজ তিনি আমাকে দিয়ে করান না। আমি অফিসে যাই, বসে সময় পার করে আবার ফিরে আসি। 

এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুন ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া ১১ জুন ২০২৬ যোগদানের পরে তাঁর বিরুদ্ধে হাসপাতালের আসবাবপত্র মেরামত, মনিহারি, অফিস সরঞ্জাম এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী কেনার বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন । 

 

 

 

 

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরকারি বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন

আপনি ও পছন্দ করতে পারেন