ডার্ক মোড
Friday, 26 June 2026
ePaper   
Logo
আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ, প্রধান প্রকৌশলীর তদন্তের নির্দেশ

আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ, প্রধান প্রকৌশলীর তদন্তের নির্দেশ

 
 
আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক
বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের দোসর ও আত্মীয়-স্বজনদের নামে কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে।
 
বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সাবেক এপিএস ও তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এ অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোঃ নুরুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) বরগুনা এলজিইডির রেস্ট হাউজে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে।
 
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৩ জুন বরগুনা এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর থেকেই মোঃ মেহেদী হাসান খান আওয়ামী লীগের দোসরদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
 
অভিযোগে আরও বলা হয়, জলবায়ু প্রকল্পের খাল খননে অনিয়ম হলেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রকল্পের অর্থ ছাড় করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। পরে গত ২০ এপ্রিল অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেন সংশ্লিষ্ট তিন প্রকৌশলী।
 
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কাজ পাওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের মধ্যে কয়েকজন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এবং অভিযুক্ত প্রকৌশলীদের নিকটাত্মীয়। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান বরিশালের “এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স”, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের “এমএস নুর কনস্ট্রাকশন”, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান “এসএম লেলিন ট্রেডার্স (লেলিন-দীপ জেভি)” এবং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল গাইনের নিকটাত্মীয়ের “নিশিত বসু ট্রেডার্স”।
 
এছাড়াও আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির সংস্কার কাজে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন। অভিযোগ রয়েছে, দায়সারা কাজ করিয়েও ঠিকাদারদের বিল ছাড় করে দেওয়া হয়েছে।
 
গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, মসজিদ সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও ঠিকাদার মাত্র দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।
 
খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার মাত্র এক লাখ টাকার কাজ করেছেন। অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
 
কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ রেদওয়ান সরদার বলেন, ঢালাইয়ের কিছুদিন পরই সড়কের পিচ উঠে গেছে। বিষয়টি জানার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
 
ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার কাজ আওয়ামী লীগের দোসর ও আত্মীয়স্বজনদের পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
 
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খান বলেন, যিনি অভিযোগ দিয়েছেন, কেন দিয়েছেন তা তিনিই বলতে পারবেন। আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম করিনি।
 
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, তদন্তের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ মে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন