ডার্ক মোড
Thursday, 23 May 2024
ePaper   
Logo
সিংড়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন রুবেল

সিংড়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন রুবেল

নাটোর প্রতিনিধি

দেশব্যাপী আলোচিত নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ থেকে জল্পনা-কল্পনা শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল হাবিব রুবেল। তিনি প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক।

রোববার(২১ এপ্রিল) দুপুরে তার প্রতিনিধি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যন আওয়ামী-লীগ নেতা মিনহাজ উদ্দিনের মাধ্যমে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফের নিকট পত্রযোগে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। তার আগে এক এক ভিডিও বার্তায় মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন রুবেল।

প্রত্যাহার পত্রে জানানো হয়, আমি মোঃ লুৎফুল হাবীব সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন- ২০২৪ইং এ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করি। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক কারণে আমার নির্বাচন করা সম্ভব নয়। অতএব, বিধায় প্রার্থনা এমতাবস্থায় আমার জমাকৃত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের মনোনয়ন পত্রটি প্রত্যাহার পূর্বক আমাকে উক্ত নির্বাচন হতে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে মর্জি হয়।

অন্যদিকে গত (১৯ এপ্রিল) সকালে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও প্রতিমন্ত্রীর শ্যালক লুৎফুল হাবিব রুবেলকে ফোনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

এছারাও এক ভিডিও বার্তায় লুৎফুল হাবিব রুবেল বলেন, সিংড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে, কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্যের আত্মীয়-স্বজন নির্বাচন করতে পারবে না। তারই আলোকে এই ঘোষণার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশনা অনুযায়ী মনোনয়ন পত্র(প্রত্যাহার) করে নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন,আমি ২০০২ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে রয়েছি। ২০০৫ সালে সিংড়া গোল-ই আফরোজ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছি। গত ৩ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পদত্যাগ করি। ইউনিয়ন পরিষদের পর পর তিন বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই।

উল্লেখ্য, গত সোমবার(১৫ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য দেলোয়ার হোসেন ব্যাংকে জামানতের টাকা জমা দেওয়ার জন্য বের হন। এ সময় তারা জরুরী প্রয়োজনে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে গেলে সেখান থেকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন দুবৃত্তরা আলাউদ্দিন মুন্সিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে দেলোয়ার হোসেন নির্বাচন অফিস থেকে নেমে আসলে তাকেও একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে নেয়।

এ সময় তারা তাকে গাড়ির ভিতর মারধর করে। পরে বিকেলে দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে (সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের পারসাঐল গ্রাম) সামনে ফেলে দিয়ে চলে যায়। চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণের দুটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ করে যে গাড়িতে তোলা হয় সেটি তার প্রতিদ্বন্দ্বী লুৎফুল হাবীব রুবেলের। পরে আহত দেলোয়ার হোসেনের ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করেন। পরে গত ১৯ এপ্রিল অসুস্থ্য দেলোয়ার হোসেনকে রাজশাহীমেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে গেলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. জুনাইদ আহমেদ পলক।

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন