ডার্ক মোড
Thursday, 23 May 2024
ePaper   
Logo
মমতাজের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত

মমতাজের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত

বিনোদন ডেস্ক

একটি প্রতারণা মামলায় বাংলাদেশি পপ সম্রাজ্ঞী ও সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর আদালত। বুধবার সেই পরোয়ানার ওপর অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি সিদ্ধার্থ রায় চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

প্রতিশ্রুতি মেনে আদালতে আত্মসমর্পনের শর্তে মমতাজের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতারণার মামলায় নিম্ন আদালতে চলা মূল মামলার বিচার প্রক্রিয়াতেও অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই গায়িকাকে। এছাড়া অন্তর্বতী স্থগিতাদেশের সময়ে আগামী তিন সপ্তাহ মমতাজ কলকাতায় যেতে পারবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় চৌদ্দ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিতেন মমতাজ। ২০০৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য সেখানকার শক্তিশঙ্কর বাগচী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে গায়িকার লিখিত চুক্তি হয়। সেইমতো ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বহরমপুরের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান শিল্পী হিসেবে মমতাজকে বায়না করেছিলেন উদ্যোক্তারা।

তবে অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরও অনুষ্ঠানে হাজির হননি গায়িকা। যথারীতি অনুষ্ঠানস্থলে ভাঙচুর হয়। চরম হেনস্তার মুখে পড়তে হয় অনুষ্ঠানের আয়োজক শক্তিশঙ্কর বাগচীকে। পরে টাকা ফেরত দিতেও অস্বীকার করেন মমতাজ। এরপর চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় থানার দ্বারস্থ হন শক্তি। কিন্তু থানা অভিযোগ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।

এরপর বাধ্য হয়ে বহরমপুর আদালতের দ্বারস্থ হন শক্তি। মমতাজের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণাসহ একাধিক ধারায় মামলা করেন। সেই সূত্রে ২০০৯ সালে মমতাজের বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদালত। পরে সমন কার্যকর না করায় তার বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এরই মধ্যে নিম্ন আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে আসেন গায়িকা।

পরে নিম্ন আদালতের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শক্তিশঙ্কর বাগচী। ২০১০ সালে নিম্ন আদালতের নির্দেশ খারিজ করে মমতাজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রাখে কলকাতা হাইকোর্ট।

মমতাজের আইনজীবীরা জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি মুর্শিদাবাদ আদালতে শর্ত সাপেক্ষ আত্মসমর্পণ করবেন। আদালতের নির্দেশ মতো বিচারপ্রক্রিয়াতেও অংশ নেবেন। তার প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রতিশ্রুতি মতো তিনি আত্মসমর্পণ না করলে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।

 

মন্তব্য / থেকে প্রত্যুত্তর দিন