সোনাগাজী সঃপ্রাঃ বিদ্যালয় চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শত শত শিশুর পাঠদান
মাহমুদুল হাছান কাওছার সোনাগাজী (ফেনী)
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও এই জরাজীর্ণ ও ফাটল ধরা ভবনেই প্রতিদিন চলছে শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীর পাঠদান। ফলে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক আর জীবনঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের অফিস কক্ষের মুখে ও বিভিন্ন স্থানে পিলারে মারাত্মক ফাটল দেখা দিয়েছে। সামনের পিলারের পলেস্তারা খসে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে এবং দীর্ঘাকৃতির ফাটলগুলো দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। ভবনের বিভিন্ন অংশের দেয়াল স্যাঁতসেঁতে হয়ে শ্যাওলা পড়ে গেছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরের ও বারান্দার ছাদের পলেস্তারা প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে বলে জানান বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া কক্ষ ও শিক্ষকের যথেষ্ট সংকট। ২৭৪ জন শিক্ষার্থী বিপরীতে ৮ জন। যেখানে ১০ জন শিক্ষকের চাহিদা রয়েছে। দপ্তর কাম প্রহরী ও বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর না থাকায় চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিকেও রয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া নিরাপদ পানির অভাবে অনেক শিশু তৃষ্ণার্ত থাকে বা অনিরাপদ পানি পান করতে বাধ্য হয়। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। কখন ছাদ বা দেয়াল ধসে পড়ে সেই চিন্তায় ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এছাড়া কোন দপ্তরি কাম প্রহরী না থাকায় বিদ্যালয়ে কোনো পরীক্ষা, সভা বা অতিথি এলে পানি বা চা পরিবেশন এবং শিক্ষকদের সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক কাজে তাৎক্ষণিক সহায়তা করার কেউ থাকে না।
কাউছার মাহমুদ নামে এক অভিভাবক জানান, উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সোনাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন সন্তানকে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠাতে আমাদের ভয় লাগে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ বা সংস্কারের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি হাসান মাসুদ বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস চলতে থাকায় আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে তারা বাড়িতে শান্তিতে থাকতে পারেন না। সামান্য বৃষ্টি বা ঝড় হলেই তাদের উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। বিদ্যালয়টির এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতি দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ অথবা বিকল্প স্থানে নিরাপদ পাঠদানের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল।
সোনাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসাইন আহম্মদ বলেন, বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত। মূল সমস্যা আমাদের মূল ভবন। এটি একেবারে ঝুঁকিপূর্ণ। দপ্তর কাম প্রহরী না থাকায় উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিসে জরুরি চিঠি বা নথিপত্র পাঠানো এবং নিয়ে আসার মতো বিশ্বস্ত কোনো বাহক থাকে না। প্রতিদিন সকালে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, সময়মতো তালা খোলা এবং ছুটির পর শ্রেণিকক্ষ ও প্রধান ফটক,নিরাপদে তালাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় প্রধান শিক্ষক, সহ সহকারী শিক্ষক ও কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা করতে হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাহেরুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেও দেখে এসেছি। ভবনের অবস্থা একেবারে ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে লিখিত অভিযোগ পেলে আমি উপজেলা প্রকৌশলী কে চিঠি দেবো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য।
উল্লেখ্য -এবারে সোনাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ২১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১৮ জনের বৃত্তি লাভ করে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Latest News
Vote / Poll
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ যথেষ্ট বলে মনে করেন কি?

